মালদহে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে! ‘হিংসুটে’ ও ‘ধ্বংসাত্মক’ তকমা দিয়ে কাকে নিশানা করলেন তৃণমূল ?
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: মালদহের গাজোলে আয়োজিত এক জনসভা থেকে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বঞ্চনা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ওয়াকফ বিল ইস্যু— প্রতিটি বিষয়েই তিনি সুর চড়িয়েছেন কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে। তবে সব ছাপিয়ে নজর কেড়েছে তাঁর একটি বিশেষ মন্তব্য, যেখানে তিনি নাম না করে এক প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতাকে ‘ধ্বংসাত্মক’ ও ‘হিংসুটে’ বলে অভিহিত করেছেন। বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া আক্রমণ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
মালদহের গাজোলের নির্বাচনী জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (যাকে তিনি প্রায়শই ‘মোটাভাই’ বলে সম্বোধন করেন) তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। ওয়াকফ সংশোধন বিল এবং মালদহের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেন ।মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি নাম না নিলেও তাঁর ‘মোটাভাই’ সম্বোধন এবং আক্রমণের প্রেক্ষাপট থেকে পরিষ্কার যে তাঁর নিশানায় ছিলেন অমিত শাহ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই মোটাভাই পারে না এমন কাজ নেই। ও ধ্বংস করতে জানে। ভীষণ হিংসুটে লোক, ও পারে না এমন কাজ নেই। তবে যতই চেষ্টা করো, জিতবে না ভাই”।
ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিজেপি ভুল বোঝাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল লড়াই করে এই সম্পত্তি ইমামদের হাতে সুরক্ষিত রেখেছে। মালদহের মোথাবাড়ির সাম্প্রতিক অশান্তি এবং বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি এনআইএ (NIA)-র অতিসক্রিয়তার সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে নিরপরাধ মানুষকে হেনস্থা করছে ।
গাজোলের সভা থেকে তিনি SIR বা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়েও সরব হন এবং এর জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে দায়ী করেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, বহিরাগত রাজ্য থেকে বাসে-ট্রেনে করে লোক ঢুকিয়ে বাংলায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে ।
গাজোলের এই জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণ বুঝিয়ে দিল যে, আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও চরম আকার ধারণ করতে চলেছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা এবং ওয়াকফ বিলের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করে তিনি যেমন দিল্লির শাসকদলকে বিঁধেছেন, তেমনই ‘ধ্বংসাত্মক’ ও ‘হিংসুটে’ বিশেষণ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন। এখন দেখার, তৃণমূল সুপ্রিমোর এই কড়া বার্তার পাল্টা জবাবে বিজেপি শিবির থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, মালদহের মাটি থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক উত্তাপের আঁচ আগামী বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত অনুভূত হবে।

