নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম :- বীরভূম জেলার বারলা গ্রাম পঞ্চায়েতের রদিপুর গ্রামের পশুপালক সঞ্জীব মন্ডল (৩৬)। মাধ্যমিক পাশ করার পর উপযুক্ত চাকরির সংস্থান না করতে পেরে সঞ্জীব যুক্ত হন পশুপালনে। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয় জন। সঞ্জীব রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন সম্পর্কে অবগত হন ২০২০ সালের লকডাউন সময়কালে বীরভূমের রথীন্দ্র কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের মাধ্যমে। এরপর পশুপালনের বিভিন্ন ভার্চুয়াল প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।
সঞ্জীব দীর্ঘ ৪-বছর ধরে সোনালী মুরগী পালনের ব্যবসায়ে যুক্ত। বর্তমানে বয়লার মুরগির পাশাপাশি বাড়ছে সোনালী, করকনাথ সহ অন্যান্য প্রজাতির পাখির। পাখি ক্রয়, পাখির পরিচর্যা খামার ব্যবস্থাপনা এবং বিক্রি – সবকিছুই সঞ্জীব নিজে হাতেই করেন।
বর্তমানে সঞ্জীবের ১৫০০ সোনালী মুরগি পালনের জন্য দুটি খামার রয়েছে – একটি ৮০০ বর্গ ফুট এবং অন্যটি ৬৬০ বর্গ ফুট। কিন্তু ২০২৩ সালের জানুয়ারী মাস অর্থাৎ শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সঞ্জীবের খামারের পাখির মৃত্যু ঘটতে শুরু করে। স্থানীয় দোকানের ওষুধ ব্যবহার করেও কোনো প্রতিকার মেলে নি। ফলস্বরূপ প্রায় ৫০০-পাখির মৃত্যু ঘটে। যার ক্রয়মূল্য ১৬,০০০/- টাকা (পাখি প্রতি ৩২/-টাকা)। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বীরভূমের এই অঞ্চলে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বা অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের সন্ধান মেলা খুবই দুস্কর। এমতাবস্থায় সঞ্জীব রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের জেলা প্রতিনিধি মৃনাল মন্ডলের সহায়তায় ১৮ জানুয়ারী ২০২৩ তারিখে একটি হোয়াটস্যাপ গ্রূপের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রাণী বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কমল কান্তি দত্তের কাছে সঞ্জীব সমস্যার কথা জানালে তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খামার ব্যবস্থাপনার সুপারিশ করেন। সেইমতো ওষুধ প্রয়োগ ও অন্যান্য বিধি মেনে প্রাণীর পরিচর্যা করার ফলে পাখির মৃত্যু আটকাতে সক্ষম হন – মৃত্যুর হার শূন্যে নেমে আসে।
সাধারণতঃ পাখি ক্রয় থেকে বিক্রির সময় পর্যন্ত পাখির জীবনচক্রে ১১০-১২০ দিন লাগে। পাখির গড় ওজন ১.৫ কেজি হয় গেলে সঞ্জীব তারাপীঠ ও স্থানীয় বাজারে পাখি বিক্রি করেন। একটি চক্রে ব্যবসার আয়তন ১৫০০ পাখি। এই চক্রে সঞ্জীবের পাখির ক্রয়মূল্য (১৫০০ পাখি ধরে) এবং পাখির খাবার, খামার ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা (১০০০ সুস্থ পাখি ধরে) সব কিছু নিয়ে চলতি খরচের পরিমান প্রায় ১,৯০,০০০/- টাকা। ১০০০-সুস্থ পাখির গড় ওজন ১.৫ কেজি ধরলে মোট মাংসের উৎপাদন ১৫০০ কেজি। বিক্রয়মূল্য প্রতি কেজি ২৫০/- টাকা ধরে মোট বিক্রয়লব্ধ আয় ৩,৭৫,০০০/- টাকা। এর থেকে চলতি খরচ ১,৯০,০০০/- টাকা বাদ দিলে নীট লাভের পরিমান ১,৮৫,০০০/- টাকা।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের পরিষেবায় উপকৃত সঞ্জীব আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন “….যে হারে পাখির মৃত্যু ঘটেছিলো, তাতে আমার প্রায় ৩৫,০০০/- টাকার ক্ষতি হতো। ফাউন্ডেশনের প্রাণী বিশেষজ্ঞের সু-পরামর্শ ও চিকিৎসার ফলে প্রাণী মৃত্যুর হার যেমন শূন্যে নামাতে পেরেছি, তেমনই বাকি ১০০০ পাখি থেকে পর্যাপ্ত লাভও করতে পেরেছি “।

