৪২-এই ইতি জীবন নাটকে, ওড়িশায় শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক পরিণতি অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক নক্ষত্রপতন ঘটল। ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর ব্লকবাস্টার ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে পাকাপাকি জায়গা করে নেওয়া অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ওড়িশার তালসারি সৈকতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তাঁর অকাল মৃত্যু হয়েছে।
এই প্রতিভাবান অভিনেতার প্রয়াণে টলিউড এবং তাঁর অগুনতি অনুরাগীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাহুল কেবল একজন সফল অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সচেতন মানুষ এবং সাহিত্যপ্রেমী ব্যক্তিত্ব। তাঁর মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
বসন্তের এক বিষণ্ণ বিকেলে বাংলা বিনোদন জগৎ হারালো তার অন্যতম প্রিয় মুখকে। ওড়িশার দিঘার পার্শ্ববর্তী তালসারি সৈকতে তাঁর বর্তমান ধারাবাহিক ‘ভোলেনাথ পার করবে’-র শুটিংয়ে গিয়েছিলেন রাহুল। দিনভর কাজের পর হয়তো একটু অবসরের খোঁজে সমুদ্রের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলায় মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে গেল সব। সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে তিনি তলিয়ে যান। সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন। মাত্র ৪৩ বছরেই যবনিকা পড়ল এক বর্ণময় অভিনয় জীবনের।
রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবি দিয়ে টলিউডে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। প্রথম ছবিতেই আকাশছোঁয়া সাফল্য পেয়েছিলেন রাহুল। এরপর ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘জুলফিকার’, ‘ব্যোমকেশ গোত্র’-র মতো ছবিতে নিজের অভিনয়ের গভীরতা প্রমাণ করেছিলেন তিনি। ছোট পর্দায় ‘খেলা’, ‘মা’, ‘দেশের মাটি’-র মতো ধারাবাহিকে তাঁর সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের ঘরের মানুষ করে তুলেছিল তাঁকে। শুধু অভিনয় নয়, তাঁর লেখালেখি এবং ‘সহজ কথা’ পডকাস্টের মাধ্যমে তিনি প্রতিনিয়ত নিজের মননশীলতার পরিচয় দিতেন।২০২৩ সালেই রাহুল এবং তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার সমস্ত মান-অভিমান ভুলে আবার এক ছাদের তলায় আসার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান সহজের জন্য তাঁরা নতুন করে সংসার সাজানোর স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্নের মাঝপথেই চিরবিদায় নিলেন রাহুল। ছোট্ট সহজের মাথায় বাবার আশীর্বাদের হাতটা আজ অসময়েই সরে গেল।
রাহুলের এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্টুডিও পাড়ায়। সহকর্মীরা বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে হাসিখুশি, আড্ডাপ্রিয় মানুষটা আর নেই। টলিউড আজ যেন এক নিঃশব্দ হাহাকারে পূর্ণ। পর্দার ‘কৃষ্ণ’ আজ নীল দিগন্তের ওপারে চলে গেলেও, তাঁর কাজ আর ব্যক্তিত্ব রয়ে যাবে অগুনতি মানুষের হৃদয়ে।

