আকাশ ফুঁড়ে নামবে ধ্বংস! ৭০ কিমি বেগে ঝড়ের ঝাপটা আর মুহুর্মুহু বজ্রপাত; জেলায় জেলায় ‘নরক’ হওয়ার সংকেত।
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: আকাশের দখল নিতে ধেয়ে আসছে কালো মেঘের দানব! খরতপ্ত দুপুর নিমেষেই বদলে যেতে পারে ঝোড়ো অন্ধকারে। আবহাওয়া দপ্তরের কড়া হুঁশিয়ারি— শান্ত প্রকৃতি এবার রুদ্রমূর্তি ধারণ করতে চলেছে। একদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হতে পারে জনজীবন, অন্যদিকে মুহুর্মুহু বজ্রপাতে ‘নরক’ গুলজার হতে পারে রাস্তাঘাট। জেলায় জেলায় জারি হয়েছে চরম সতর্কতা। প্রকৃতি কি তবে বড় কোনো ধ্বংসলীলার সংকেত দিচ্ছে? জেনে নিন আপনার এলাকায় কখন আছড়ে পড়তে পারে এই দুর্যোগ।
তপ্ত রোদের আলসেমি ভেঙে এবার ধেয়ে আসছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্প আর স্থানীয় ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলায় রাজ্যের আবহাওয়া আমূল বদলে যেতে চলেছে। শুধু ঝিরঝিরে বৃষ্টি নয়, হাওয়া অফিস স্পষ্ট জানিয়েছে, ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসতে পারে দমকা হাওয়া। এই ঝড়ের গতিবেগ এতটাই বেশি হতে পারে যে, রাস্তার ধারের দুর্বল গাছ বা পুরনো বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি হয়েছে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’। বিশেষ করে দুই ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম এবং নদীয়া জেলায় দুর্যোগের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকবে। শহর কলকাতায় আকাশ কালো করে বৃষ্টির সাথে কালবৈশাখীর দাপট দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির ভ্রুকুটি জারি রয়েছে।
সবচেয়ে ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মুহুর্মুহু বজ্রপাত। আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরণের অস্থির আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ-চমক প্রাণঘাতী হতে পারে। ফলে বৃষ্টির সময় খোলা আকাশের নিচে বা বড় গাছের নিচে থাকা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। গ্রাম থেকে শহর— সর্বত্রই প্রশাসনের তরফে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে।
প্রকৃতির এই খামখেয়ালি রূপ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে দুর্যোগের সামনে আমরা কতটা অসহায়। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতাই পারে আমাদের রক্ষা করতে। ঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া মাত্রই নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান, বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ সাবধানে রাখুন এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন, আপনার একটু সতর্কতা জীবন বাঁচাতে পারে।

