আবার ভয়ঙ্কর অগ্নিকান্ড নারকেলডাঙ্গা বস্তিতে
কলকাতা এখন যেন জতুগৃহে পরিণত হচ্ছে। দক্ষিণ থেকে উত্তর – কলকাতার সর্বত্র কাছে মাঝেই আগুন লাগছে। এবার ভস্মিভূত হল উত্তরের নারকেলডাঙ্গা বস্তি। শনিবার রাত দশটা নাগাদ বিস্তৃত এলাকায় আগুন লাগে বলে জানা গিয়েছে। রাত ১২টা পেরিয়ে গেলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ঘটনাস্থলে দমকলের ১৭টি ইঞ্জিন পৌঁছেছে। রাতের শহরে অগ্নিকাণ্ডে ঘরছাড়া বহু মানুষ। আতঙ্ক এলাকাজুড়ে। বস্তিতে প্রচুর পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগুন লেগেছে কাপড়ের গোডাউনেও। বেআইনিভাবে কাপড়ের গোডাউন তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের একাংশের আবার দাবি, সিলিন্ডার ফেটে আগুন লাগে। ঘটনা নারকেলডাঙার রেলকোর্য়ার্টার বস্তির। প্রথমে পোড়া পোড়া গন্ধ, তারপর গোটা বস্তি ঢেকে যায় লেলিহান আগুনে। জ্বলে যায় একের পর এক ঝুপড়ি। ইতিমধ্যেই জ্বলে গিয়েছে ৩০ থেকে ৪০টি ঝুপড়ি।
পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্বাভাবিক। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যু হয়েছে একজনের।
মৃত ব্যক্তির নাম হাবিবুল্লা মোল্লা। ঘটনার সময় সেই এলাকারই একটি গোডাউনে ছিলেন তিনি। আগুন লাগার ঘটনা হয়তো টের পাননি সেই ব্যক্তি। স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন আগুন নিভতেই উদ্ধার হয়েছে তার দগ্ধ দেহ। জানা যাচ্ছে, তুলো-কাগজ-বস্তা-লোহা ভাঙার মতো প্রচুর বর্জ্য পদার্থ জমা করা হয় এই ঝুপড়িগুলিতে। সেই সব দিয়েই পেট চলে এই এলাকার মানুষের। কিন্তু পেটে অন্য জোগানোর মাধ্যমগুলোই যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে তা ধারণা করতে পারেনি তারা। প্রাথমিক তদন্তে, এই সকল বর্জ্য পদার্থের জেরে আগুন তীব্রতর হয়ে বলে মনে করছে দমকল। অবশ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সঠিক সময় মতো দমকল না পৌঁছনোর কারণেই এতটা বেড়ে গিয়েছে আগুন। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানাচ্ছেন, ‘ওরা বলছে দু’মিনিটের মধ্যে নাকি এসেছে। দমকল যদি সত্যিই ওত তাড়াতাড়ি আসত, তবে কি এতটা আগুনটা ছড়িয়ে পড়তে পারত?’

