গত রাতেই চালু অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক সংশোধনী আইন, রাজ্যে রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ
মনিপুষ্পক খাঁ, নিউজডেস্ক: – দেশে গতকাল রাত থেকেই কার্যকর হয়েছে অভিবাসন ও বিদেশী নাগরিক সংশোধনী আইন। আইনটিতে বলা হয়েছে , কোন অনুপ্রবেশকারী ভারতে ধরা পড়লে তাঁকে নিজেদের দেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত ” ডিটেনশন ক্যাম্পে ” আটকে রাখতে পারবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার।
উল্লেখ্য, গত বাজেট অধিবেশনে অভিবাসন ও বিদেশী নাগরিক সংশোধনী বিষয়ক এই বিলটি পাশ হয় সংসদে, যা গত রাত থেকে কার্যকর হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, নেপাল ও ভুটানের বাসিন্দারা শুধুমাত্র বিনা ভিসায় কেবল পাসপোর্ট দেখিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন। বাকি সমস্ত দেশের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ও ভিসা আবশ্যিক।
বিদেশী নাগরিক সংশোধনী আইনটিতে বলা হয়েছে , যথাযথ নথিপত্র না থাকলে , ভারতে প্রবেশের সময় ধরা পড়লে অথবা অবৈধভাবে যারা ভারতে রয়েছেন এমন অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে তাদের নিজেদের দেশে না পাঠানো পর্যন্ত রাজ্যগুলি সংশ্লিষ্টদের ” ডিটেনশন ক্যাম্পে” বন্দি রাখতে পারে। তাই কেন্দ্রের তরফে সকল রাজ্যগুলিকে দ্রুত ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত রাতে আইনটি চালু হতেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে কী আরো বিপাকে পড়বেন অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে বিভিন্ন রাজ্যের ধৃত বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকরা ? এতদিন কাগজ থাকা সত্ত্বেও, বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের একাংশ কে অনুপ্রবেশকারী বলে ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ” পুশ ব্যাক ” করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। বর্তমানে এ নিয়ে কার্যত উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বাংলাভাষী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন বাংলার শ্রমিকদের অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটকে রাখা হচ্ছে ডিটেনশন ক্যাম্পে।
এই আবহেই সারা দেশ জুড়ে বিদেশি নাগরিক সংশোধনী আইন চালু হলো। আইনটিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক বিভিন্ন ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখতে পারবে। অর্থাৎ ডিটেনশন ক্যাম্পের বৈধতা দিল নতুন আইন। এখন দেখার ভারত সরকারের নির্দেশে মেনে বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করে কী না রাজ্য সরকার।

