স্বর্ণালী হালদার, কলকাতা:— ছাইয়ের নিচে লুকিয়ে উত্তর—আনন্দপুরে প্রিয়জনের খোঁজে অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছে পরিবার
আনন্দপুরের ভস্মীভূত গুদামের সামনে দাঁড়িয়ে এখন সময় যেন থমকে আছে। ধোঁয়ায় পোড়া বাতাস, দমকলের পাইপের ভেজা মাটি, আর পুলিশের ব্যারিকেডের ওপারে সার বেঁধে অপেক্ষা—কারও ভাই, কারও স্বামী, কারও ছেলের খোঁজে। ভিতরে কী আছে, আদৌ কেউ বেঁচে আছে কি না, নাকি শুধু ছাই আর লোহার গলিত কাঠামো—সেই উত্তর এখনও অধরা।
রাতভর আগুনে পুড়েছে গুদামটি। দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা চালালেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। ততক্ষণে ভিতরে আটকে থাকা কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা ঘনিয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে, কিন্তু আগুনে এতটাই ক্ষতি হয়েছে যে দেহ শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের একাংশের।
গুদামের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা পরিজনদের চোখে এখন শুধু একটাই প্রশ্ন—“ও কি এখনও আছে?” কেউ ফোন আঁকড়ে ধরে বারবার কল করছেন, যদিও জানেন ফোনটি হয়তো আর কখনও বাজবে না। কেউ আবার চুপচাপ বসে, দূরে তাকিয়ে, যেন কোনও অলৌকিক ঘটনার অপেক্ষায়।
প্রশাসনের তরফে ডিএনএ পরীক্ষার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তবে সরকারি ভাবে এখনও হতাহতের সংখ্যা ঘোষণা করা হয়নি। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এই আগুন শুধু একটি গুদাম পুড়িয়ে দেয়নি, পুড়িয়ে দিয়েছে বহু পরিবারের নিশ্চিন্ত ঘুম, স্বাভাবিক জীবন, আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। এখন তাদের একটাই ভরসা—হয়তো শেষ মুহূর্তে কেউ বেঁচে ফিরবে। অলৌকিকের সেই আশাতেই দাঁড়িয়ে আছে তারা, ধোঁয়ার গন্ধ মাখা সকালের সামনে।

