নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মমতার ঝোড়ো হাওয়ায় উড়ে গেলো বিজেপি
১৯ হাজার দলীয় কর্মী সমর্থকদের সামনে মমতা প্রথম থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক। আর মাত্র কয়েক মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সোজা ব্যাট চালালেন নির্বাচন কমিশনের দিকে। ভোটার তালিকা সংশোধন, সংযোজনের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ থেকে শুরু করে দলের মহিলা বিধায়ক, মহিলা কাউন্সিলর এবং মহিলা সাংসদদের কাজ নিয়ে প্রশংসা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘লোকসভায় আমাদের মেয়ে প্রার্থীদের সংখ্যা এখন ৩৯ শতাংশ। ইলেকশনের আগে ৩৩ শতাংশ বলা হয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। অন্য দলগুলি তা দেয় না। আমরা কিন্তু দিই। হারা আসনে নয় বরং জেতা আসনে দিই। লোকসভা ও রাজ্যসভায় তারা রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো লড়াই করে। সুদীপ, কল্যাণ, ডেরেকদের পাশেই লড়াই করে সাগরিকারা।’
তার অভিযোগ, বাংলায় এজেন্সি পাঠিয়ে ভোটার তালিকায় কারচুপি করার চেষ্টা করছে বিজেপি। পঞ্জাব–হরিয়ানার বহু লোকের নাম বাংলার ভোটার তালিকায় ঢুকিয়েছে। দিল্লি থেকে সবটা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের আশীর্বাদেই করা হচ্ছে। কর্মীদের উদ্দেশে তৃণমূল সুপ্রিমোর বক্তব্য, ‘২০০৪ সালে আমাদের জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েও একটা আসন জিতি। তারও আগে ২০০১ সালেও আমরা ক্ষমতায় আসতাম।
কংগ্রেস বিট্রে না করলে সেবারই পরিবর্তন হতো। যে অত্যাচার করেছে, মানুষ তার বিচায় চেয়েছিল। আমরা কী করছি, সেটাও মানুষ দেখছে। আমি সেই কর্মীকেই চাই, যে কিছু চায় না। ভোটের দিন পিস্তলের সামনে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করে।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘ইলেকশনের সময় বিজেপি ডিএম, এসপি, বিডিওদের চেঞ্জ করে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে গ্রামে ঢুকিয়ে বলে তৃণমূলকে ভোট দেবে না। বিজেপিকে ভোট দাও। এমন দুরবস্থা বাংলায় আগে দেখিনি। ভোট এলেই এটা বাড়তে থাকে। সব মিডিয়াকে কন্ট্রোল করছে। ইলেকশন এলেই মনে পড়ে, তৃণমূলের কাকে কাকে চার্জশিট দেবে, জেলে ভরবে। কটা প্রমাণ করতে পেরেছেন, লজ্জা করে না।’
এর পরেই তিনি বলেন, আর সময় নেই সবাই মিলে নেমে পড়তে হবে লড়াইয়ের ময়দানে। বিজেপিকে বুঝিয়ে দিতে হবে এই বাংলায় বিজেপির কোনো স্থান নেই।

