মনিপুষ্পক খাঁ, শান্তিনিকেতন:- শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও জনপ্রিয়। শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবের মধ্যে মিশে আছে রবীন্দ্র ভাবনার প্রগতিশীলতা। ইতিহাস বলছে শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব নির্দিষ্ট কোন দিনে না হলে ও তা কিন্তু ছিল ঋতু উৎসব। সরস্বতী পুজোর দিনও অনেক সময় শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব পালন হয়েছে রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতিতে। আবার অনেক সময় রবীন্দ্রনাথের বিদেশ যাত্রা দিনক্ষণ দেখে, একটি নির্দিষ্ট দিনে শান্তিনিকেতন মেতে উঠেছে শ্রীময় ও সুস্থ সংস্কৃতির ঋতু উৎসবে। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন মনকে মুক্ত করতে হয় , কিন্তু তিনি মনকে মুক্ত করার ব্যাপারে অত্যন্ত সাবধান ও ছিলেন, তিনি মনে করতেন সবকিছুতেই শ্রীময়তা ও সুস্থতা থাকা উচিত। তাই হয়তো চারিদিকে যখন বসন্ত উৎসবের নামে উন্মত্ততা শান্তিনিকেতনে তখন সুসংবদ্ধ অনুষ্ঠান , এই ছিল রবীন্দ্র ভাবনা।
কিন্তু সে সব এখন অতীত, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বপ্নের বিশ্বভারতী তে বেশ কিছু বছর বন্ধ বসন্তোৎসব। শেষ বসন্তোৎসব হয়েছিল ২০১৯ সালে যেখানে প্রচুর পর্যটক ও ছিলেন । পরে বিদ্যুৎ চক্রবর্তী উপাচার্য পদে এসে বন্ধ করেন বসন্তোৎসব। পরিবর্তে শুরু হয় “বসন্ত বন্দনা ” , যেখানে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী , অধ্যাপক-অধ্যাপিকা দের ছাড়া পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল কার্যত নিষিদ্ধ।
এই ” বসন্ত বন্দনা ” নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি , তবে উপাচার্য হিসেবে বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর মেয়াদ উত্তীর্ণের পর নতুন উপাচার্য আসার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া পৌষ মেলা ফিরেছে , তাতেই আবারো বসন্ত উৎসব ফিরবে এই আশায় বুক বেঁধেছিলেন শান্তিনিকেতনের স্থানীয় বাসিন্দা , বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী সহ সর্বস্তরের মানুষ । তবে ২০২৪ সালেও বসন্ত উৎসব করেনি বিশ্বভারতী , পরিবর্তে আবারো ” বসন্ত বন্দনা ” আয়োজন অকাল চৈত্রে, তীব্র দাবদাহের মধ্যে !
” বসন্ত বন্দনা” অনুষ্ঠান ১০ এপ্রিল আয়োজিত হলেও , অস্বাভাবিক ভাবে সেদিন পড়াশোনা চলবে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত বিভাগে , এমন কী অনেক বিভাগেই তৃতীয় বর্ষের ইন্টার্নাল পরীক্ষার ও দিন ধার্য হয়েছে সেদিন ! যা বিশ্বভারতীর ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। কর্তৃপক্ষের এহেন সিদ্ধান্তে সাধারণভাবেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে শিক্ষা মহলে।

