ভোটের মুখে বারুদের স্তূপ! বীজপুরে বোমা উদ্ধারে তীব্র আতঙ্ক
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে কমিশন যখন কড়া নজরদারির কথা বলছে, ঠিক তখনই উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর থানা এলাকায় নতুন করে বারুদের গন্ধ ছড়াল। কাঁচরাপাড়ার একটি ফাঁকা মাঠে বালির বস্তার আড়াল থেকে তাজা বোমা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রবিবার তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়। ঘটনার খবর চাউর হতেই স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ভীতি ও আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কাঁচরাপাড়ার ক্ষুদিরাম কলোনি এলাকায় একটি ফাঁকা মাঠে কিছু বালির বস্তা পড়ে ছিল। রবিবার সকালে সেখানে সন্দেহজনক কিছু দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। কাছে গিয়ে তাঁরা বুঝতে পারেন যে ব্যাগের ভেতরে তাজা বোমা লুকিয়ে রাখা আছে। আর দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় বীজপুর থানায়।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছয় কাঁচড়াপাড়ার ক্ষুদিরাম কলোনির সেই ঘটনাটিতে। সুরক্ষার স্বার্থে তড়িঘড়ি গোটা জায়গাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। খবর পাঠানো হয় বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াডকে। বিশেষজ্ঞরা এসে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বোমাগুলো উদ্ধার করেন এবং নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে গিয়ে সেগুলিকে নিষ্ক্রিয় বা ডিফিউজ করা হয়।
ভোটের ঠিক মুখে এমন বিস্ফোরক প্রাপ্তি নিছক কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয় বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যথারীতি তৃণমূল ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে পুরোদমে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে গিয়েছে।
বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া আটকাতে এবং এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করতেই শাসকদলের মদতে এই বোমাগুলো মজুত করা হয়েছিল।
অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পালটা দাবি করেছে, এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত করতে এবং তাদের দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বিরোধীরাই এই কাজ করেছে।
এই ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা নতুন করে বিভিন্ন সন্দেহজনক জায়গায় তল্লাশি ও রুট মার্চ শুরু করেছেন। তবে নির্বাচনের প্রাক্কালে যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারা থাকার কথা, সেখানে কীভাবে প্রকাশ্য মাঠে বোমা চলে এলো, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঘটনার পেছনে আসল চক্রী কারা এবং ঠিক কী উদ্দেশ্যে এই বোমাগুলো আনা হয়েছিল, তা জানতে বীজপুর থানার পুলিশ একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

