মনিপুষ্পক খাঁ, শান্তিনিকেতন : পোশাক বিতর্কের পর আবারো শিরোনামে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। এবার অস্বাভাবিকভাবে লোকসভা নির্বাচনের সময় দুটি সেমিস্টারের সময়সূচী ঘোষণা করেছে বিশ্বভারতী, যাতে স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে প্রশ্ন। যেখানে শুধুমাত্র লোকসভা নির্বাচনের কারণে ইউপিএসসি কর্তৃপক্ষ তাদের পরীক্ষা ২০ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে , সেখানে বিশ্বভারতীর মতন ঐতিহ্যশালী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে লোকসভা নির্বাচনের সময় পরীক্ষার আয়োজন করছে। যদি ও পড়ুয়াদের মতে সেই দুটি সেমিস্টারের সময়সূচী যথাক্রমে মে ও জুলাই মাসে, অতএব একটি সেমিস্টারের সময়সূচী এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে । আর এতেই পড়ুয়াদের অভিযোগ এখনো অধিকাংশ সিলেবাস ই শেষ করতে পারিনি বিশ্ববিদ্যালয়, তাই তারা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস শেষে পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন, সঙ্গে রয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ এমত অবস্থায় অনেকেই বিভাগে আসতে পারছেন না, অনেকে আবার অসুস্থও হয়ে পড়ছেন, এই অবস্থায় পড়ুয়াদের দাবি গরমের ছুটির পর সেমিস্টারের আয়োজন করুক বিশ্বভারতী, এবং পড়ুয়াদেরও ভোটদানের অধিকার সুরক্ষিত হোক।
বিশ্বভারতীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে ও অভিযোগ জানালো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় অংশের পড়ুয়ারা, অভিযোগে ভোটাধিকার প্রয়োগের অধিকার চাওয়া হয়েছে।গণতন্ত্রের বৃহত্তর উৎসব নির্বাচন , সামনেই লোকসভা নির্বাচন , বিশ্বভারতীতে এ রাজ্যের পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ, কেরল , বিহার , গুজরাট , অসম, ত্রিপুরা সহ বিভিন্ন রাজ্যের ছাত্র ছাত্রীরা পড়াশোনা করে। এমত অবস্থায় বিশ্বভারতী পরীক্ষা নিলে রাজ্যে ফিরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না অধিকাংশ পড়ুয়ারা। আর এতেই বেজায় ক্ষুদ্ধ অধিকাংশ পড়ুয়া ।
গত সোমবার লোকসভা নির্বাচনের সময়কালে পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্বভারতী
বিশ্ববিদ্যালয়। এখন প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষকে নির্বাচনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করার জন্য যখন নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন সামাজিক বার্তা দিচ্ছে তখন সেই নির্বাচনের সময় ই বিশ্বভারতীর মতন ঐতিহ্যশালী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার সময়সূচী নির্ধারণ হয় কিভাবে ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , লোকসভা নির্বাচনের সময় গোটা ভারতবর্ষে একমাত্র বিশ্বভারতীতেই বিভিন্ন সেমিস্টারের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

