রক্তের টান হার মানল চারপেয়েদের ভালোবাসার কাছে ; নদিয়ার নবজাতক উদ্ধারে শোরগোল
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: মানুষের নিষ্ঠুরতা আর পশুদের মানবিকতার এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী দৃষ্টান্ত দেখা গেল নদিয়ার কৃষ্ণনগর সংলগ্ন এলাকায়। যেখানে নিজের পরিবার এক সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে রাতের অন্ধকারে পথের ধারে ফেলে দিয়ে যায়, সেখানে একদল পথকুকুর ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হয়। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় আর বন্য জন্তুর ভয় থাকা সত্ত্বেও, কুকুরগুলো শিশুটিকে কোনো ক্ষতি না করে সারারাত আগলে রেখে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর এবং নবদ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় এক পরিত্যক্ত নবজাতককে একদল পথকুকুর সারারাত আগলে রাখার এক বিস্ময়কর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার নবদ্বীপ থানার অন্তর্গত স্বরূপগঞ্জ পঞ্চায়েতের স্বরূপনগর রেল কলোনি এলাকায় । ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে (১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে) এই ঘটনা ঘটে । পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুটিকে একটি শৌচাগারের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল । রাতের অন্ধকারে একদল পথকুকুর শিশুটিকে ঘিরে বৃত্ত তৈরি করে বসে থাকে। তারা কোনো হিংস্রতা দেখায়নি, বরং শান্তভাবে পাহারা দিয়ে শিশুটিকে শেয়াল বা অন্যান্য বিপদের হাত থেকে রক্ষা করে । পরদিন ভোরে রাধা ভৌমিক নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা শৌচাগারে যাওয়ার সময় দেখতে পান যে, ৪-৫টি কুকুর একটি শিশুকে ঘিরে ধরে আছে। তিনি এগিয়ে গেলে কুকুরগুলো শান্তভাবে সরে যায় । এরপর স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে নবদ্বীপের মহেশগঞ্জ হাসপাতালে এবং পরে কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে এবং তার শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন নেই। শিশুটির পরিচয় জানার জন্য কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি ও নবদ্বীপ থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবার যাকে ত্যাগ করেছে, প্রকৃতি তাকে আগলে রেখেছে। কৃষ্ণনগরের রাজপথে একদল কুকুর হারানো মানবতাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করল। এই ঘটনাটি চিরকাল আমাদের মনে করিয়ে দেবে যে, রক্ষাকর্তা হিসেবে কখনও কখনও বিধাতা এই অবলা প্রাণীদেরই বেছে নেন।

