অসহায় দরিদ্র পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে দুর্গা পুজোয় নতুন বস্ত্র বিতরণ অনুভূতি সেবা কেন্দ্রের
বাইজিদ মন্ডল দক্ষিন চব্বিশ পরগনা :- পিতৃ পক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনা লগ্ন। দীর্ঘ ৩৬৫ দিনের অপেক্ষার শেষে দুর্গোৎসবে পাঁচ দিনের আনন্দে ভাসতে থাকা বাঙালির কাউন্ট ডাউন শুরু হয়ে গেছে। পুজো পুজো গন্ধ, কেনাকাটা,হইচই , চারিদিকে সাজ সাজ রব,আর কয়েকটি দিন মাত্র,মা উমা আসছেন সপরিবারে।
সচ্ছল পরিবার ইতিমধ্যেই নতুন বস্ত্র কেনাকাটা সেরেছেন। এমনাবস্থায় আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া পরিবারের পঞ্চাশোর্ধ শতাধিক মহিলা ও পুরুষদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিল(এদের মধ্যে নব্বই উর্ধ্ব মহিলাও আছেন) সন্তোষপুর কলকাতার অনুভূতি সেবা কেন্দ্র।
এই সামাজিক সংস্থাটি প্রতিবছরই মহালয়ার দিনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে নতুন বস্ত্র বিতরণ করে থাকেন। এ ভাবেই বিগত ১৫ বছর ধরে প্রয়াত পিতা গোপাল কর্মকার এর প্রতি তর্পণ বা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে চলেছেন। এবছর তাহারা বেছে নিয়েছেন বৈষ্ণব ঘাটা পাটুলি টাউন শিপের এস ২৭ নম্বর ঠিকানার মনিকুটির, স্থানীয় ভাবে যেটি মন্দির বাড়ি বলেই পরিচিত।
বাঙালির বড় উৎসব দুর্গাপূজা, মা দুর্গা ধনী-দরিদ্র, জাতপাত ভেদাভেদ করেন না। তবু দেখা যায় একশ্রেণীর মানুষ জাকজমক থেকে বঞ্চিত, সাধ থাকলেও সাধ্য থাকে না তাদের।
ধর্ম নিজের নিজের , উৎসব সকলের, এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী অনুভূতি সেবা কেন্দ্রের কর্ণধার অমল কর্মকার বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাধ্য বঞ্চিত পরিবারের প্রবীণ প্রবীনাদের মুখে হাসি ফোটাতে অনুভূতি সেবা কেন্দ্রের এই উদ্যোগ। তিনি বিশ্বাস করেন দুর্গোৎসব সব ধর্মের মানুষের মিলন উৎসব।
আগামী দিনেও সকল স্তরের মানুষদের সহযোগিতায় এই কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেই তিনি মনে করেন। পিতা প্রয়াত গোপাল কর্মকার এর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন ও প্রদীপ প্রজ্জলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন অমলেন্দু বিকাশ দাস।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রানা বোস, বিমান চৌধুরী,বিশ্বনাথ চক্রবর্তী,কণা সাহা, সুপর্ণা মাইতি,তাপস দত্ত, কিংশুক ভট্টাচার্য,কৌশিক সাহা, দেবাশীষ পাল,কাজল বোস,রত্না বোস প্রমুখ।
উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংস্থার সম্পাদক অমল কুমার কর্মকার।

