স্বর্ণালী হালদার, কলকাতা:
আগুনের জেরে সিগন্যালিং বিপর্যয়, দীর্ঘক্ষণ থমকে মুম্বই লোকাল! গন্তব্যে পৌঁছতে রেললাইন ধরে হাঁটলেন বহু যাত্রী, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৩ জনের
ব্যস্ততম শহর মুম্বইয়ের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত লোকাল ট্রেন পরিষেবা দীর্ঘক্ষণ ব্যাহত হওয়ায় চরম দুর্ভোগের মুখে পড়লেন নিত্যযাত্রীরা। একটি স্টেশনের কাছে আগুন লাগার জেরে সিগন্যালিং পরিষেবা বিঘ্নিত হয়। তার ফলে থমকে যায় ট্রেন চলাচল। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অধৈর্য হয়ে বহু যাত্রী রেললাইন ধরেই হাঁটতে শুরু করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। এরই মধ্যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে।
প্রতিদিন কর্মস্থল, স্কুল-কলেজ এবং বিভিন্ন জরুরি কাজে যাতায়াতের জন্য মুম্বইয়ের লক্ষ লক্ষ মানুষ লোকাল ট্রেনের উপর নির্ভর করেন। ফলে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হলেই তার প্রভাব পড়ে শহরের স্বাভাবিক জনজীবনে। এই ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দীর্ঘক্ষণ ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছনোর তাগিদে অনেকেই বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেন।
অভিযোগ, পরিস্থিতির চাপে নিত্যযাত্রীদের একাংশ ট্রেন থেকে নেমে রেললাইন ধরে হাঁটতে শুরু করেন। কিন্তু চলন্ত ট্রেনের লাইন ধরে হাঁটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষ করে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় সমস্যা থাকলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এই ধরনের ঘটনা রেলপথে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে ঠিক কোন স্টেশনের কাছে আগুন লেগেছিল, কতক্ষণ পরিষেবা বন্ধ ছিল এবং তিনজনের মৃত্যুর সঙ্গে রেল পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে রেল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, রেল পরিষেবা ব্যাহত হলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা কতটা জরুরি। সামান্য অসতর্কতাও বড়সড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

