গণতন্ত্রের পাহারা: প্রলোভন আর পেশিশক্তির দিন কি তবে শেষ? ২০২৬-এর নতুন নির্বাচনী ছক!
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলার বাতাসে আবার ভোটের গন্ধ। চায়ের দোকানে রাজনৈতিক তর্জা থেকে পাড়ার মোড়ের দেওয়াল লিখন—সবই জানান দিচ্ছে এক বড় লড়াইয়ের প্রস্তুতি। কিন্তু সাধারণ ভোটারের মনে আজও একটা প্রশ্ন কাঁটার মতো বিঁধে থাকে—’ভোটটা কি শান্তিতে দিতে পারব?’ অতীতে বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট কিংবা ভোটারকে ভয় দেখিয়ে ঘরবন্দি করে রাখার যে ছবিগুলো আমরা দেখেছি, ২০২৬-এর নির্বাচনে কি তার বদল ঘটবে? নির্বাচন কমিশন এবার কোমর বেঁধে নেমেছে। ভয় দেখালেই শ্রীঘর, আর প্রলোভন দিলেই কড়া ব্যবস্থা—এমনই এক ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে এগোচ্ছে প্রশাসন। কিন্তু বাস্তবে কতটা বদলাতে চলেছে এবারের ভোটের চালচিত্র? হারানো গণতন্ত্র ফেরাতে কমিশনের তুরুপের তাসগুলো ঠিক কী কী? চলুন দেখে নেওয়া যাক এবারের নির্বাচনের পর্দার পেছনের আসল প্রস্তুতি।
আগে শোনা যেত বুথ দখল বা রিগিংয়ের কথা। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার সেই সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। প্রতিটি বুথে থাকছে ‘লাইভ ওয়েবকাস্টিং’। অর্থাৎ, দিল্লিতে বসেও কমিশনের কর্তারা দেখে নিতে পারবেন আপনার বুথে কী চলছে। যদি দেখা যায় কোনো বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা ঢাকা দেওয়া হয়েছে বা ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করা হয়েছে, তবে সেই বুথের ভোট বাতিল করে দেওয়া হবে। ডিজিটাল এই নজরদারি এবার ভোট চোরদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে চলেছে।
এছাড়াও বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার, মদ বা দামি উপহারের লেনদেন রুখতে রাস্তায় রাস্তায় নাকা চেকিং বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের অন্দরেও চলেছে বড়সড় রদবদল। যে সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ছিল, তাঁদের সরিয়ে নিরপেক্ষ মুখ আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভোটার তালিকায় থাকা ‘ভুয়ো নাম’ সরাতেও এবার নজিরবিহীন কড়াকড়ি করা হচ্ছে।
কমিশন এবার ‘সি-ভিজিল’ (cVIGIL) অ্যাপের মতো ডিজিটাল মাধ্যমকে আরও জনপ্রিয় করতে চাইছে। সাধারণ মানুষ যদি কোথাও কোনো অনিয়ম দেখেন, তবে সরাসরি ছবি তুলে বা ভিডিও করে এই অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। ১০০ মিনিটের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে প্রশাসন। ফলে শুধু পুলিশ বা বাহিনী নয়, সাধারণ নাগরিকও এবার ভোট পাহারায় শামিল হতে পারবেন।
শেষ পর্যন্ত লড়াইটা হবে ব্যালট বক্স বা ইভিএম-এ। প্রশাসন তার সুরক্ষাকবচ তৈরি রাখলেও, আসল দায়িত্ব কিন্তু ভোটারের। ভয় আর প্রলোভনকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করাই হবে এবারের নির্বাচনের সবথেকে বড় জয়। এখন দেখার, এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘেরাটোপে বাংলার ভোট কতটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়।

