বামপন্থা এখন কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায়, বাস্তবে গব্বর সিং-এর রাজত্ব! সিপিআইএম-এর নীতি নিয়ে বিস্ফোরক প্রতীক উর রহমান
অনন্যা ব্যানার্জী,কলকাতা: ২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বাংলার রাজনীতিতে বড়সড় ধামাকা। যে নেতা একসময়। ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছিলেন, সেই প্রতীক উর রহমানই এখন তৃণমূলের সৈনিক। তবে কেবল দলবদল নয়, সিপিআইএম-এর দীর্ঘদিনের ‘নীতি ও আদর্শ’ নিয়ে তাঁর করা একের পর এক মন্তব্য এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে চর্চিত বিষয়।
গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারের বাম প্রার্থী এবং এসএফআই-এর চেনা মুখ প্রতীক উর রহমান আলিমুদ্দিনের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে ঘাসফুল শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। ২১ ফেব্রুয়ারি ডায়মন্ড হারবারের আমতলায় এক জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা তুলে নেন তিনি। দল ছাড়ার পর সিপিআইএম-এর অন্দরমহলের ‘অন্ধকার’ দিকগুলো নিয়ে তিনি যে বয়ান দিয়েছেন, তাতে অস্বস্তিতে বাম নেতৃত্ব।
প্রতীক উর রহমানের আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সিপিআইএম-এর সাংগঠনিক কাঠামো এবং তাদের বর্তমান রাজনৈতিক দিশা।
প্রতীক দাবি করেছেন, সিপিআইএম-এর ভেতরে এখন আর গণতন্ত্র নেই। সেখানে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। তিনি সরাসরি বলেন, “দলে কয়েকজন গব্বর সিং বসে আছেন, যাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুললেই কোণঠাসা হতে হয়।” তাঁর মতে, নিচুতলার কর্মীদের মনের কথা বলার কোনো অধিকার সেখানে নেই।
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের নাম না করে প্রতীক অভিযোগ করেন, দলের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট লবি সব নিয়ন্ত্রণ করছে। যোগ্য কর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে কেবল পছন্দের লোকেদের পদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, গত দু-বছর ধরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছিল।
বামপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোকে ‘ভিক্ষা’ বা ‘দান’ বলে কটাক্ষ করে এসেছে। প্রতীক এই নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বাংলার মহিলাদের আত্মসম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। বাম নেতৃত্ব সাধারণ মানুষের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।
প্রতীকের মতে, সিপিআইএম এখন কেবল ফেসবুক আর টিভি ডিবেটের দলে পরিণত হয়েছে। বাস্তব লড়াইয়ের ময়দান থেকে তারা বিচ্ছিন্ন। তিনি মনে করেন, বিজেপির সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বর্তমানে একমাত্র তৃণমূলেরই আছে।
প্রতীকের এই আক্রমণের পর সিপিআইএম হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের একাংশের মতে, “সুবিধাবাদী রাজনীতি” করতেই তিনি দলবদল করেছেন। যদিও মহম্মদ সেলিম ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন, তবুও প্রতীকের তোলা ‘লবিবাজি’র অভিযোগ অস্বস্তি বাড়িয়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে।
প্রতীক উর রহমানের এই বিদ্রোহ কেবল একজন নেতার দলবদল নয়, বরং এটি বামফ্রন্টের অন্দরে থাকা তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যে আদর্শের দোহাই দিয়ে বামপন্থীরা রাজনীতি করে, সেই আদর্শই আজ তাদের ঘরের ছেলের কাছে প্রশ্নের মুখে। ২০২৬-এর লড়াইয়ে এই ‘বিস্ফোরণ’ তৃণমূলকে কতটা সুবিধা দেবে এবং বামেদের কতটা ক্ষতি করবে, তা সময়ই বলবে।

