বুথের ১০০ মিটারে ‘লক্ষ্মণ রেখা’। ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনে কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলার নির্বাচন মানেই টানটান উত্তেজনা আর রাজনৈতিক উত্তাপ। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে সেই উত্তাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সাধারণ ভোটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অভিনব কৌশলের পথে হাঁটল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্রের ঠিক ১০০ মিটার দূরত্বে টানা হচ্ছে একটি অদৃশ্য অথচ কঠোর ‘লক্ষ্মণ রেখা’। বুথের দখলদারি রোখা এবং সাধারণ মানুষের মনে বিশ্বাস ফেরানোই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।
নির্বাচন কমিশনের এই নতুন ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী, প্রতিটি বুথকে কেন্দ্র করে এক বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারদিকে সাদা চক দিয়ে ১০০ মিটারের একটি গণ্ডি বা ‘লক্ষ্মণ রেখা’ তৈরি করা হবে। এই গণ্ডির ভেতর কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাম্প, জমায়েত বা প্রচার চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ভোটার যখন এই রেখা অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকবেন, তখন তাঁকে তিনটি আলাদা স্তরে নথিপত্র দেখাতে হবে। প্রথমেই থাকবেন বিএলও (BLO), এরপর লাইন নিয়ন্ত্রক এবং সবশেষে বুথের ভেতরে প্রিসাইডিং অফিসার। উদ্দেশ্য একটাই—ভুয়ো ভোটারদের প্রবেশ এক শতাংশও হতে না দেওয়া।
এবার মাইক্রো-অবজার্ভার ও নিরাপত্তা বাহিনীর পোশাকে থাকবে বিশেষ ‘বডি-ক্যামেরা’। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ড্রোন ব্যবহার করে বুথের ১০০ মিটারের গতিবিধি সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
রাজ্য পুলিশের কাজ হবে কেবল লাইন সামলানো। ১০০ মিটারের এই সংবেদনশীল এলাকায় পূর্ণ নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলার রাশ থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে।
যদি কেউ এই গণ্ডির ভেতর নিয়ম ভঙ্গ করেন বা ভোট দেওয়ার সময় কারচুপির চেষ্টা করেন, তবে সরাসরি তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে FIR করা হবে এবং থাকছে কারাদণ্ডের সংস্থান।
ভোটারদের নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতার নিরিখে কমিশনের এই ‘লক্ষ্মণ রেখা’ সিদ্ধান্তটি এক বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষ যাতে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই এখন মূল উদ্দেশ্য। কমিশনের এই শক্ত অবস্থান ২০২৬-এর নির্বাচনে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বাংলা।

