রাস্তা দখল না রাজনৈতিক চক্রান্ত? মালদহের বিজেপি বিধায়কের পাম্প ঘিরে শুরু হলো নতুন ‘মহাভারত’!
অনন্য ব্যানার্জী, কলকাতা: ভোটের উত্তাপে মালদহ এখন সরগরম, তবে এবার ইস্যু কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়—বরং খাস জমি আর সরকারি রাস্তার মালিকানা। মালদহের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহার একটি পেট্রোল পাম্পকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। দীর্ঘদিনের ‘সাথী’ যখন আজকের ‘প্রতিপক্ষ’, তখন সেই লড়াই যে ব্যক্তিগত আক্রমণ আর আইনি টানাপোড়েনে মোড় নেবে, তা বলাই বাহুল্য।
নির্দল প্রার্থী নিতাই মণ্ডলের দাবি, বিধায়ক গোপাল সাহা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের একটি পেট্রোল পাম্প সম্প্রসারণ করেছেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, পাম্পটি তৈরির সময় সরকারি খাস জমি এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের রাস্তাকে নিজের সীমানার মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়েছেন বিধায়ক। নিতাই মণ্ডলের বক্তব্য, “যিনি আইনের রক্ষক, তিনিই আজ ভক্ষক। সরকারি রাস্তা গিলে নিজের ব্যবসা বাড়াচ্ছেন বিধায়ক, আর সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সপাটে উড়িয়ে দিয়েছেন বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা। তাঁর দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিধায়কের পাল্টা প্রশ্ন, যদি রাস্তা দখলই হয়ে থাকে, তবে এতদিন কেন কেউ অভিযোগ করেনি? নির্বাচনের আগে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতেই নির্দল প্রার্থী কুৎসা রটাচ্ছেন বলে তাঁর অভিমত। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিয়ম মেনেই সমস্ত নির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তিনি যে কোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।
রাজনীতিবিদদের মতে, এই বিতর্কের শিকড় অনেক গভীরে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিধায়ক গোপাল সাহার ওপর গুলি চলার ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল এই নিতাই মণ্ডলেরই। সেই সময় তাঁকে জেলেও যেতে হয়েছিল। সেই পুরনো ব্যক্তিগত সংঘাতই কি এখন ‘রাস্তা দখল’ বিতর্কের রূপ নিয়ে ভোটের ময়দানে ফিরে এল? এমন প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মালদহের চায়ের দোকানে।
ভূমি ও রাজস্ব দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাপজোকের পর স্পষ্ট হবে সত্যিই কোনো সরকারি জমি বেদখল হয়েছে কি না। তবে তদন্ত যে দিকেই যাক, ভোটের মুখে এই ‘পেট্রোল পাম্প’ বিতর্ক যে বিজেপি শিবিরের অস্বস্তি কিছুটা বাড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
সব মিলিয়ে, মালদহের এই ‘পেট্রোল পাম্প’ বিতর্ক এখন স্রেফ জমি দখলের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই, তা রূপ নিয়েছে হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক যুদ্ধে। একদিকে যখন প্রাক্তন সতীর্থ নিতাই মণ্ডল দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়ে সাধারণ মানুষের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে বিধায়ক গোপাল সাহা একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে নিজের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখার লড়াই লড়ছেন। এখন দেখার, প্রশাসন এই অভিযোগের সত্যতা কত দ্রুত প্রকাশ্যে আনে। তবে তদন্তের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভোটের ময়দানে এই কাদা ছোড়াছুড়ি যে সাধারণ ভোটারদের মনে বড়সড় প্রভাব ফেলবে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে, এই বিতর্ক কার দিকে ভোটের পাল্লা ভারী করে আর কার জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়।

