বাঁকুড়া জেলার খাতড়া ব্লকের অন্তর্গত বৈদ্যনাথপুর গ্রামের বরিষ্ঠ কৃষক নারায়ণ কর্মকার। দুই সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটির জীবিকা কৃষি ও মৎস্য চাষের উপর নির্ভরশীল। নারায়ণ বাবু দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মাছ চাষের সাথে যুক্ত। নারায়ণ বাবুর বর্তমানে দুটি পুকুরে মূলতঃ মিষ্টি জলের মাছ চাষ হয়, একটি ৯ বিঘা, অপরটি ৬ বিঘা। নারায়ণ বাবু ২০২১ সালে একটি গ্রামীণ সচেতনতা শিবিরের মাধ্যমে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর হেল্পলাইন নম্বর সহ বিভিন্ন জীবিকা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের কথা জানতে পারেন।
এরপর ধারাবাহিক ভাবে হেল্পলাইন এবং অডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমে মাছ চাষের আধুনিক পদ্ধতিগুলি জানতে থাকেন, বিশেষ করে ব্যয় সাশ্রয়ী ঘরোয়া খাবার তৈরি, পুকুর তৈরি, জল শোধন ও ডিম পোনা চাষ। সম্প্রতি একটি পুকুরের মাছ হঠাৎই মরে ভেসে ওঠে। এই অবস্থায় ত্রাতা হয় পাশে দাঁড়ায় রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের মৎস্য বিশেষজ্ঞ ডক্টর অনিন্দ্য নায়েক এর সাথে হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ৪১৯ ৮৮০০ যোগাযোগ করলে তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধের সুপারিশ সহ পরামর্শ দেন পুকুরে পাম্প চালিয়ে পুকুরের জন ওই পুকুরেই ফেলতে – যাতে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক থাকে। মৎস্য বিশেষজ্ঞ-এর সুপারিশ অনুসরণ করার পর কয়েক দিনের মধ্যেই পুকুরের জল পরিশুদ্ধ হয় মাছ মরা বন্ধ হয়।
পাশাপাশি মাছের উৎপাদনও আগের থেকে বাড়তে থাকে। দুই বছর আছে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনে যুক্ত হওয়ার আগে যেখানে দুটি পুকুরে উৎপাদন হতো ১৫ কুইন্টাল, সেখানে বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৯ কুইন্টাল, বিক্রয় মূল্য গড়ে ১৩০/- টাকা প্রতি কেজি। গড় আয় প্রায় বার্ষিক ২.৮৫ লক্ষ টাকা।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর প্রশিক্ষণ ও তথ্যে উপকৃত নারায়ণ বাবু বলেন “আগে প্রথাগত পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য উদপাদন অনেকটাই কম হতো, কিন্তু ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞের পরামর্শে আধুনিক মাছ চাষের বিষয়গুলি রপ্ত করার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খরচও অনেকটাই কমেছে, ফলে বেড়েছে মুনাফা। তাছাড়া আগে কোনো সমস্যা হলে গ্রামের ওষুধের দোকান-ই ছিল ভরসা, কিন্তু এখন যে কোনো সমস্যায় রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পাওয়ার ফলে চিকিৎসা নিয়ে আর কোনো চিন্তা করতে হয় না “

