Tuesday, April 21, 2026
- Advertisement -

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের হোয়াটস্যাপ ও হেল্পলাইনে উপকৃত মুর্শিদাবাদ নিবাসী প্রগতিশীল কৃষক অরুন

- Advertisement -

মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা-২ ব্লকের অধীন নদী তীরবর্তী গ্রাম পাচকেটিয়া বাস্তবিক অর্থেই কৃষি সম্পদে ভরপুর। এই গ্রামের তরুণ কৃষক অরুন মন্ডল (৩২) রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের কৃষি ও প্রাণী সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য পরিষেবায় আজ প্রগতিশীল কৃষক হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর চাকরির সন্ধানে না থেকে অরুণ বেছে নিয়েছে পারিবারিক কৃষি কাজ। ছয় সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটির জীবন জীবিকা মূলতঃ এক একর জমি ও প্রাণিপালনের উপরেই নির্ভরশীল। মূল ফসল মরশুমি সবজি যেমন, ফুলকপি, টমেটো, আলু, বাঁধাকপি, সিম, লঙ্কা, কড়াইশুঁটি, পটল এবং ঢেঁড়স। যদিও অরুন মূলতঃ প্রথাগত পদ্ধতিতেই চাষাবাদ করতেন। ফলে, কৃষিতে পোকার আক্রমণ, জৈব সার ব্যবহারের ধারণার অভাব, সঠিক বীজ শোধন বা চারা বপনের পদ্ধতি না জানার ফলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হয় নি।

এমতাবস্থায়, ২০২০ সালে প্রথম লকডাউন এর সময় জনৈক কৃষি বিজ্ঞানীর মাধ্যমে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ৪১৯ ৮৮০০ সম্পর্কে জানতে পারেন। পরবর্তীকালে কৃষি ও পশুপালনের সমস্যা হলেই হেল্পলাইন এর মাধ্যমে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে আধুনিক চাষের খুঁটিনাটি রপ্ত করতে থাকেন। অরুনের এই আগ্রহে এরপর তাঁকে হোয়াটস্যাপ গ্রূপেও যুক্ত করে দেওয়া হয়। একদিকে হোয়াটস্যাপ এবং অন্যদিকে হেল্পলাইনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে অরুন কৃষি ও প্রাণিসম্পদের তথ্য আদানপ্রদান করতে থাকেন। বিশেষ করে বীজ শোধন পদ্ধতি, উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার, গাছের চারা বপন করার পদ্ধতি, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা, আগাছা পরিষ্কার ও ন্যানো সারের ব্যবহার ইত্যাদি সম্পর্কে বিশেষভাবে অবহিত হন। সেইমতো চাষ করার ফলে উল্লেখযোগ্য ভাবে ফসলের উৎপাদনই শুধু বাড়েনি, গাছের মৃত্যুর হারও (mortality) উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

যেমন, আলুর চাষে প্ল্যান্ট গ্রোথ হরমোন, বোরোনের ও ন্যানো সার ব্যবহারের ফলে এ বছর উৎপাদণ হয়েছে প্রায় ৫০ কুইন্টাল, যেখানে বিগত বছরে উৎপাদন ছিল ৪০ কুইন্টালের মতো। অনুরূপে, ঝিঙের উৎপাদন ৪৫-৫০ দিনের ব্যবধানে এবছর হয়েছে প্রায় ৫৫ কেজি, বিগত বছরে ছিল মাত্র ৩৫ কেজির আশপাশে। টমেটোর উৎপাদন ১০ কাঠা জমিতে বিগত বছরের দৈনিক ৩৫-৪০ কেজির তুলনায় এ বছর বেড়ে হয়েছে ৫০-৫৫ কেজি। সিমের উৎপাদন বিগত বছরের দৈনিক ৩৫ কেজি থেকে বেড়ে এই মরশুমে হয়েছে প্রায় ৫০ কেজি। পাশাপাশি পরীক্ষামূলক ভাবে ৫-কাঠা জমিতে এ বছর অরুন চাষ করেছেন ব্রুকলি। সম্ভাব্য উৎপাদন ১০০০ পিস।

কৃষি ছাড়াও গাভী পালনেও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাফল্য পেয়েছেন অরুন। সম্প্রতি একটি গাভীর আচমকাই পাতলা পায়খানার জন্য অসুস্থ হয় পরে। প্রাণিপালন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে হেল্পলাইনে চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধের ব্যবহারে তিন দিনের মধ্যেই গাভি সুস্থ হয়। পাশাপাশি আগে মূলতঃ গাভীকে ঘরোয়া খাবার, যেমন খোল, ময়দা ইত্যাদি খাওয়াতেন। কিন্তু রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞের সুপারিশে প্রাণীকে পুষ্টিকর খাবার এর মিশ্রণ দেয়ার ফলে দুধের উৎপাদন পূর্বের ১০-১১ লিটার থেকে বেড়ে বর্তমানে হয়েছে দৈনিক ১৩-১৪ লিটারের মতো। দুধে ফ্যাটের পরিমান যথাযথ থাকার ফলে দাম পাচ্ছেন এখন ৪৩/–৪৫/- টাকা। পূর্বে দুধের দাম পেতেন ৪০-৪২/- টাকা। এক অর্থে একজন সফল প্রগতিশীল কৃষকরূপে আজ আত্মপ্রকাশ করেছেন অরুন – সৌজন্যে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments