গ্রাম বাংলার অর্থনীতির এখনো মূল বুনিয়াদ কৃষি ও কৃষি সংক্রান্ত কাজ। কৃষি কার্যের বিস্তার বাস্তবে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি খাদ্য সুরক্ষাও সুনিশ্চিত করে। বিগত কয়েক বৎসরে কৃষি সংক্রান্ত কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম ব্লকের মাঝিগ্রাম গ্রামও এই পরম্পরার ব্যতিক্রম নয়। সম্প্রতি রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এবং ক্রিস্টাল ক্রপ কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে নবগ্রাম ব্লকের মাঝিগ্রামের ১৪ জন মহিলা কৃষককে নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে উচ্চফলনশীল ধান চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই অঞ্চলের পরিবারগুলো প্রথাগত পদ্ধতিতেই এতদিন ধান চাষ করত। ফলে পুজিবিনিয়োগ ও শ্রমের তুলনায় উৎপাদনশীলতা যথেষ্ট কম হতো।
এলাকায় সহজলভ্য বীজের মাধ্যমে যেখানে ধানের উৎপাদন হতো বিঘাপ্রতি ৫. ০০-৫. ৫০ কুইন্টাল, সেখানে এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগে CHR 846 উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ ব্যবহার করে উৎপাদন বেড়েছে বিঘা প্রতি প্রায় আট কুইন্টাল। এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগে 14 জন মহিলা কৃষককে এক কেজি করে ধানের বীজ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বীজ সংশোধন, জৈব সারের ব্যবহার, কীট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা, জলের ব্যবহার, ইত্যাদি বিষয়ের ওপর হাতে কলমে কৃষককে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের দ্বারা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি ছড়াও আগে আগের থেকে উৎপাদন খরচও অনেকটাই কমেছে।
এই উচ্চফলনশীল বীজের বৈশিষ্ট্য এখানে ধানের ফলন হতে মাত্র ১১০-১২০ দিন সময় লাগে যেখানে প্রথাগত পদ্ধতিতে ফলন হতে লাগতো ১৩০-১৪০ দিন। কৃষকরা এই ধান ২৩২০ টাকা প্রতি কুইন্টাল দামে বিক্রি করেছে। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পে আজ প্রকল্পের সহায়তা প্রাপ্ত মহিলা কৃষক পূর্ণিমা প্রধান, চায়না মন্ডল, শেফালী প্রধানের মতো ১৪ জন কৃষক প্রকৃত অর্থেই লাভবান হয়েছেন। ধান চাষ আজ তাদের কাছে অনেকটাই লাভজনক এবং সুস্থায়ী। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন পরিবার এই মহিলা কৃষকদের সদিচ্ছা উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানায়। এভাবেই গ্রাম বাংলার কৃষি কৃষি অর্থনীতির উন্নতিতে নিয়োজিত রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন।

