৩০ বছর পর ফের বিধানসভা যুদ্ধে অধীর চৌধুরী
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে অধীর রঞ্জন চৌধুরী এক অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বর্ণময় চরিত্র। বহরমপুরের দীর্ঘদিনের সাংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে তিনি তাঁর স্পষ্টবক্তা ও লড়াকু মেজাজের জন্য পরিচিত। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি যখন পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন, তখন তাঁর কিছু সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং আচরণ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে বহরমপুরে প্রচারের সময় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে তাঁর দেওয়া “রিপেয়ারিং” বা **”রক্তারক্তি”**র হুঁশিয়ারি সংবাদমাধ্যমে ‘বিস্ফোরক’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দীর্ঘ সংসদীয় রাজনীতির পর আবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত এবং শাসক দলের সাথে তাঁর এই সরাসরি সংঘাত বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতেআরও এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
৪ এবং ৫ এপ্রিল ২০২৬-এ বহরমপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে (বিশেষ করে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড ও খাগড়া এলাকায়) প্রচারের সময় অধীর চৌধুরীকে তৃণমূল কর্মীরা কালো পতাকা দেখান এবং রাস্তা আটকানোর চেষ্টা করেন । এর প্রতিক্রিয়ায় তিনি অত্যন্ত আগ্রাসী ভূমিকা নেন, যা রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়েছে।
২০২৬-এর নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়ে ৫ এপ্রিল ২০২৬-এ বহরমপুরে বিক্ষোভের মুখে পড়ে অধীর চৌধুরী অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “বহু মাস্তানকে সাইজ করে, রিপেয়ার করে বড় হয়েছি”। তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে তাঁর এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এবং ‘রিপেয়ারিং’ করার প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিকে রাজনৈতিক মহল ‘বিস্ফোরক’ হিসেবে দেখছে। ৪ এপ্রিল ২০২৬-এ বহরমপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারের সময় অধীর চৌধুরীকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং তাঁর পথ আটকানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় কংগ্রেস ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং অধীর চৌধুরী দাবি করেন যে তৃণমূল আশ্রিত সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা করেছে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ৪ এপ্রিল তিনি অভিযোগ করেন যে মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনার পিছনে তৃণমূল সরাসরি জড়িত। এছাড়া এর আগে ফেব্রুয়ারিতে রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় রাজীব কুমার বা কোয়েল মল্লিকের মতো নাম থাকা নিয়ে তিনি শ্লেষাত্মক মন্তব্য করেছিলেন।অধীর চৌধুরী বহরমপুর কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর সংলগ্ন এলাকায় এই অশান্তি ও তাঁর কঠোর অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি করেছে।
বহরমপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াই কেবল ভোটের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা চরম ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। নিজের গড় হিসেবে পরিচিত বহরমপুরে বাধার মুখে পড়ে অধীর চৌধুরীর ‘রিপেয়ারিং’ বা **’রক্তারক্তি’**র মতো মন্তব্যগুলো তাঁর লড়াকু ভাবমূর্তিকে যেমন তুলে ধরছে, তেমনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সৌজন্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন এবং শাসকদলের সাথে এই সরাসরি সংঘাত আগামী দিনে মুর্শিদাবাদ তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

