ভোটের আগে বাইক-শাসনে কমিশন! সন্ধ্যা ৬টার পর রাজপথে কড়া নজরদারি
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: গণতন্ত্রের শ্রেষ্ঠ উৎসব নির্বাচন। কিন্তু এই উৎসবের আবহে অশান্তির কালো ছায়া রুখতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের পাখির চোখ। আর সেই লক্ষ্যেই এবার আমজনতার চলাফেরায়, বিশেষ করে বাইক ব্যবহারের ওপর জারি হয়েছে নজিরবিহীন বিধিনিষেধ।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে প্রচারের কোলাহল থামার পাশাপাশি রাজপথে চাকার গতিতেও লাগাম টানা হচ্ছে। কমিশনের আশঙ্কা, রাতের অন্ধকারে বাইক ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানো বা অসাধু উপায়ে টাকা ও মদের পাচার বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচলে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
দিনের বেলাতেও ছাড় নেই পুরোপুরি। নিয়ম অনুযায়ী, দিনের আলোয় বাইক চললেও তাতে চালক ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি বা ‘পিলিয়ন রাইডার’ বসানো যাবে না। তবে আপৎকালীন পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা রাখা হয়েছে- ১.রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।
২.ছাত্রছাত্রীদের স্কুল বা কলেজে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা হবে।
৩.নির্বাচনের দিন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নাকা তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। নিয়ম অমান্য করলেই কড়া আইনি ব্যবস্থা এবং বাইক বাজেয়াপ্ত করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
শহরের ব্যস্ত রাজপথ হোক বা গ্রামের গলি—সর্বত্রই এখন পুলিশের টহল। কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করলেও, বৃহত্তর স্বার্থে অর্থাৎ একটি স্বচ্ছ ও সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচনের জন্য এই কৃচ্ছ্রসাধন জরুরি বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। বুথ পর্যন্ত নির্ভয়ে পৌঁছতে এই সাময়িক নিয়ন্ত্রণই হয়তো সাধারণ ভোটারের রক্ষাকবচ হয়ে উঠবে।

