নিজস্ব প্রতিনিধ, বাঁকুড়া:- বাঁকুড়া জেলার সিমলাপাল ব্লকের বাউরিশোল গ্রামের সরষে চাষী এবং রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর ডিজিটাল ফার্ম স্কুল এর একজন সক্রিয় সদস্য অনিমেষ পাইন । তিন সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটির জীবিকা ধান, সবজি চাষ, সরষে চাষ ও পশু পালনের চাষের উপরেই নির্ভরশীল। অনিমেষ বাবুর পরিবারের মোট কৃষি জমির পরিমান সাত বিঘা। বর্ষার সময় আমন ধানের পাশাপাশি মরশুমি সবজি এবং সর্ষে চাষ থেকে যা রোজগার হয় তাতে প্রাচুর্য না থাকলেও মোটামুটি স্বাচ্ছন্দের সাথেই জীবিকা নির্বাহের কাজটি চলে যায়।
অনিমেষ বাবু রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এর সাথে পরিচিত হন ২০২১ সালের জুন মাসে ফাউন্ডেশনের কর্মী সুজয় পাঠকের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন জীবিকা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ ও নিঃশুল্ক হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ৪১৯ ৮৮০০ এর সাথেও অবগত হন। পরবর্তী কালে হেল্পলাইনের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞের সাথে কৃষি সম্পর্কিত বিভিন্ন আধুনিক তথ্যের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যান কৃষিকাজ। মে ২০২২ সালে এই গ্রামে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ধানও সরষে চাষের সাথে যুক্ত কৃষক দের নিয়ে একটি “ডিজিটাল ফার্ম স্কুল” শীর্ষক একটি অভিনব প্রকল্প চালু করে। প্রকল্পে বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার ১৫০ জন কৃষক সদস্য। মূলতঃ জৈব ও আধুনিক কৃষি পদ্ধতির সাথে কৃষককে দক্ষ করে তুলে তাঁর রোজগার বাড়ানোই মূল লক্ষ্য।
বিগত মরশুমে অনিমেষ বাবু এই ফার্ম স্কুল থেকে ধারাবাহিক ভার্চুয়াল ট্রেনিং এর মাধ্যমে সরষে চাষের উদ্ভাবনী বিষয়গুলি রপ্ত করেন, বিশেষ করে সেচ দেওয়ার সঠিক সময় ও মাইক্রোনিউট্রেন্ট সংক্রান্ত বিষয়গুলি এবং সেইমতো দুই বিঘা জমিতে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে সরষে চাষ করেন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে কৃষি দপ্তরের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ এনেও স্প্রে করেন। ২০২১ সালে যেখানে সরষে উৎপাদনের পরিমান ছিল ২.৩০ কুইন্টাল, সেখানে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন-এর প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর ২০২২ সালে উৎপাদনের পরিমান হয়েছে ২.৬০ কুইন্টাল। দু বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ৫০০০/- টাকা। পরিবারের জন্য কিছুটা রেখে বাকি সরষে স্থানীয় লক্ষ্মীসাগর বাজারে ৫৫/- টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি করেছেন অনিমেষ।
অনিমেষ বাবু আজ রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের “ডিজিটাল ফার্ম স্কুল” এর ফলে উপকৃত তো বটেই, গর্বিতও বটে !! তাঁর কথায় “ ডিজিটাল ফার্ম স্কুল সত্যিই এক অভিনব প্রকল্প, যেখানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষের শুরু থেকে শেষ খুঁটিনাটি বিষয়গুলি কৃষককে শিখিয়ে তাঁদের কৃষিকে সুস্থায়ী এবং কৃষককে প্রকৃত অর্থেই আত্মনির্ভর করে তুলেছে “। এভাবেই গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে হাজার হাজার অনিমেষের পাশে দাঁড়িয়ে আধুনিক কৃষি রূপায়ণের পথ দেখাচ্ছে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন।

