Thursday, April 23, 2026
- Advertisement -

কড়া পাহারায় গণতন্ত্র! কমিশনের নিরপেক্ষতার অ্যাসিড টেস্ট কাল

- Advertisement -

কড়া পাহারায় গণতন্ত্র! কমিশনের নিরপেক্ষতার অ্যাসিড টেস্ট কাল।

অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্র এখন থমথমে উত্তেজনা। রাজনীতির চড়া সুর আজ স্তিমিত হলেও ব্যাকস্টেজে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। কিন্তু সবার নজর যেখানে ইভিএম-এর দিকে, সেখানে আসল লড়াইটা লড়তে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। অতীতের হিংসার ছায়া সরিয়ে রেখে সাধারণ ভোটারকে বুথমুখী করাই এখন কমিশনের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। আগামীকাল সকালের সূর্য কি এক শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রের বার্তা নিয়ে আসবে?

 

শান্তিপূর্ণ ভোট করানো শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি এখন কমিশনের জন্য সম্মানের লড়াই। অতীতের নির্বাচনের দাগ ধুয়ে ফেলতে এবার রণকৌশলে বড়সড় বদল এনেছে নির্বাচন ভবন। গ্রাম বাংলার অলিতে-গলিতে এখন নীল-সাদা পুলিশের বদলে জলপাই উর্দির দাপট। তবে অভিজ্ঞ মহল বলছে, বাহিনীর সংখ্যা দিয়ে অশান্তি মাপা যায় না; আসল পরীক্ষা হলো বুথের ভেতরে ভোটারের গোপনীয়তা আর নিরাপত্তা রক্ষা করা। সিসিটিভি ক্যামেরা আর মাইক্রো-অবজারভারদের নজর এড়িয়ে কেউ কি পারবে ছাপ্পা ভোটের পুরনো খেলা খেলতে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কাল সারা রাজ্যের চোখ থাকবে বুথগুলোর প্রবেশদ্বারে।

 

ভোটের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কমিশনের সদর দফতরে ইমেইল আর ফোনের বন্যায় নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। বিরোধী শিবিরগুলো বারবার ‘ছায়া প্রশাসনের’ উপস্থিতির আশঙ্কা করছে, অন্যদিকে শাসক দল সরব হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা নিয়ে। দুই পক্ষের এই সাঁড়াশি চাপের মুখে দাঁড়িয়ে কমিশনকে প্রমাণ করতে হবে তাদের শিরদাঁড়া কতটা শক্ত। সিভিক ভলান্টিয়ারদের ব্রাত্য রাখা বা সরকারি শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি জট কাটিয়ে ওঠা—প্রতিটি পদক্ষেপে কমিশন বোঝাতে চাইছে তারা এবার আপসহীন। তবে মাঠের বাস্তবচিত্র যদি বারুদের গন্ধে ভারী হয়, তবে সমস্ত প্রস্তুতিই ম্লান হয়ে যাবে।

রাত পোহালেই শুরু হবে গণতন্ত্রের সেই মহাযজ্ঞ, যেখানে প্রতিটি আঙুলের কালির ছাপ এক একটি প্রতিবাদের বা সমর্থনের ভাষা। আগামীকাল কেবল প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণের দিন নয়, আগামীকাল নির্বাচন কমিশনের ‘অগ্নিপরীক্ষা’। বুথে বুথে লম্বা লাইন কি নির্ভয়ে এগোবে, নাকি সন্ত্রাসের আতঙ্কে থমকে যাবে ভোটারের পা—তার ওপরই নির্ভর করছে কমিশনের গ্রেড কার্ড। দিনশেষে, ইভিএম-এর বোতাম টেপার পর একজন সাধারণ মানুষ যখন বুক ফুলিয়ে বাড়ি ফিরবেন, ঠিক তখনই প্রমাণিত হবে কমিশন পাশ করেছে নাকি ফেল। গণতন্ত্রের এই উৎসবে আসল ‘হিরো’ হয়ে উঠতে পারবে কি কমিশন? জবাব দেবে আগামীর চব্বিশ ঘণ্টা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments