রণক্ষেত্র কোকওভেন: মধ্যরাতে ওসির চোখে চোখ রেখে লক্ষণ ঘড়ুইয়ের হুঁশিয়ারি, উত্তপ্ত দুর্গাপুর!
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: শিল্পনগরী দুর্গাপুরের নিস্তব্ধতা ভেঙে মধ্যরাতেই জ্বলে উঠল প্রতিবাদের আগুন। স্রেফ একটা গ্রেপ্তার নয়, বরং পুলিশের ‘একতরফা’ ভূমিকার প্রতিবাদে যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ চন্দ্র ঘড়ুই। কোকওভেন থানার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে যখন তিনি ওসির সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে লড়ছেন, তখন রাজপথের ধুলোয় বসে বিজেপি কর্মীদের একটাই দাবি ‘ন্যায়বিচার’। রাতভর চলল ঘেরাও, কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল আর রাজনৈতিক তরজার এক রুদ্ধশ্বাস নাটক।
অশান্তির আঁচ আগে থেকেই ছিল, কিন্তু তা দাবানলের রূপ নেয় যখন রাতের অন্ধকারে কোকওভেন থানার পুলিশ অতর্কিতে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হানা দেয়। কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই এই ধরপাকড় শুরু হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় গেরুয়া শিবির। খবর পাওয়া মাত্রই অনুগামীদের নিয়ে রণংদেহী মেজাজে থানায় পৌঁছান বিজেপি নেতা লক্ষণ ঘড়ুই।
থানার ভেতরে ঢুকেই মেজাজ হারান লক্ষণবাবু। কর্তব্যরত ওসির (OC) চোখে চোখ রেখে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কোনো অপরাধ ছাড়াই কেন রাতে কর্মীদের তুলে আনা হচ্ছে?” ওসির সাথে তাঁর এই বাদানুবাদ স্রেফ কথার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা এক সময় ব্যক্তিগত তর্জার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবি—পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা ভুলে শাসকদল তৃণমূলের ‘বি-টিম’ হিসেবে কাজ করছে।
থানার বাইরে তখন শয়ে শয়ে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়। স্লোগানে স্লোগানে কেঁপে উঠছে শিল্পাঞ্চল। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে থানার কলাপসিবল গেট আটকে দেয় পুলিশ। কিন্তু ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা গেট ধরে ঝাঁকুনি দিতে শুরু করলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি এলাকায় নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। কার্যত দুর্গাপুরের এই অংশটি কিছু সময়ের জন্য একটি পুলিশি দুর্গে পরিণত হয়।
লক্ষণ ঘড়ুইয়ের অভিযোগ, “তৃণমূল ভয় পেয়ে পুলিশের মাধ্যমে আমাদের কর্মীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এভাবে ভয় দেখিয়ে বিজেপিকে দমানো যাবে না।” অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি কর্মীরা এলাকায় অশান্তি পাকাচ্ছিল বলেই পুলিশ আইনমাফিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
রাতভর এই টানটান উত্তেজনার পর পুলিশ ই আশ্বাসে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও, চাপা উত্তেজনা এখনো বিদ্যমান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ যে আরও জটিল হলো, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

