বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর সদর সাব-ডিভিশনের অন্তর্গত সোনামুখী ব্লক এর মানুষের জীবন জীবিকা সম্পূর্ণভাবে কৃষি এবং পশুপালনের উপর নির্ভরশীল। ২০১১ এর আদমশুমারি অনুসারে প্রায় ৭৭ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ভাবে কৃষিক্ষেত্রের উপর নির্ভরশীল। নিজস্ব চাষ ছাড়াও অনেকেই কৃষি শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। এই ব্লকের অধীন বাউলবেড়িয়া গ্রামের নিতাই গরাই (৩৬) আজ রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণে একজন সফল কৃষক। পারিবারিক জীবিকা সবজি চাষ, বিশেষ করে করলা এবং ধান। ধানি জমির পরিমান প্রায় ১০ বিঘা। এছাড়াও ছোট আকারে পশুপালন করেন। চার সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটির জীবিকা সম্পূর্ণভাবেই কৃষি ও কৃষি সম্পর্কিত ক্ষেত্রে উপর নির্ভরশীল।
নিতাই বাবু ২০২০ সাল থেকে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের একজন উপভোক্তা। একটি গ্রামীণ সচেতনতা শিবির থেকে পরিচয় ঘটে ফাউন্ডেশনের সাথে। সেই থেকেই নিতাই বাবু নিয়মিত হেল্পলাইন এর মাধ্যমে কৃষির এবং আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করেন। এই বছর খরিফ মরশুমে নিতাই বাবু এক বিঘা জমিতে করলা এবং কিছুটা জমিতে শসা চাষও করেছিলেন। বিনিয়োগের পরিমান যথাক্রমে করলার ক্ষেত্রে ৫০০০/- এবং শসার ক্ষেত্রে ২০০০০/- টাকা। কিন্তু করলা একটু বড়ো হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই লাল হয়ে যাচ্ছিলো। সময় নষ্ট না করে নিতাই বাবু সাথে সাথে হেল্পলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন ফাউন্ডেশনের কৃষি বিশেষজ্ঞের সাথে। পাশাপাশি হোয়াটস্যাপ গ্ৰুপেও তথ্য আদান প্রদান করেন।
সমস্যার প্রকৃতি অনুধাবন করে কৃষি বিশেষজ্ঞ প্রয়োজনীয় ওষুধের সুপারিশ করেন। ফলস্বরূপ এক সপ্তাহের মধ্যে নিতাইবাবুর সমস্ত করলা স্বাভাবিক হয় সতেজ অবস্থায় ফিরে আসে। একই সাথে শশা চাষেরও কিছু তথ্য সংগ্রহ করেন। এ বছর নিতাইবাবুর করলা উৎপাদন হয় ৪৫ কুইন্টাল এবং প্রতি কেজি ২০/- টাকা দরে বিক্রি করেন। পাশাপাশি শসার উৎপাদন হয় ৬৫ কুইন্টাল এবং বিক্রয়মূল্য ১০/- টাকা প্রতি কেজি।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এই পরিষেবায় উপকৃত নিতাই আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন ” ২০২০ সালের আগে আমি সাবেকি পদ্ধতিতে চাষ করতাম, ফলে অনেক ফসল নষ্ট হতো, উৎপাদনের পরিমাণও কম হতো। কিন্তু রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন অডিও কনফারেন্স, হেল্পলাইন পরিষেবা এবং হোয়াটস্যাপ গ্রূপের মাধ্যমে আমি এখন নিয়মিত আধুনিক কৃষির তথ্যগুলি সংগ্রহ করতে পারি। পাশাপাশি আবহাওয়ার গতি প্রকৃতি অনুসারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারি। ফলে একদিকে উৎপাদন যেমন বেড়েছে, ফসলও নষ্ট হওয়া বন্ধ হয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন পরিবারের কাছে “

