Saturday, April 18, 2026
- Advertisement -

গুমোট গরমের ইতি, কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়ায় স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল শহর

- Advertisement -

গুমোট গরমের ইতি, কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়ায় স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজল শহর

অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: তপ্ত দুপুরের গুমোট অস্বস্তি ঝেড়ে ফেলে আচমকাই যেন রণমূর্তি ধারণ করল প্রকৃতি। শুক্রবার মাঝরাত থেকে ঘন কালো মেঘে ঢাকল কলকাতার আকাশ। শুরু হলো একের পর এক বিদ্যুতের ঝিলিক আর কান ফাটানো বজ্রগর্জন। মুহূর্তের মধ্যেই ধুলো উড়িয়ে ধেয়ে এল কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া, আর তার সঙ্গেই শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। উত্তরে শ্যামবাজার থেকে দক্ষিণে গড়িয়াহাট—শহরের রাজপথ থেকে অলিগলি, ভিজল তিলোত্তমার প্রতিটা কোণ। একদিকে এই বৃষ্টি শহরবাসীর কাছে স্বস্তির পরশ বয়ে আনলেও, ঝড়ের দাপটে থমকে গেল স্বাভাবিক জনজীবন।

 

কলকাতায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড জনজীবন। শুক্রবার তথা ২৮শে মার্চ রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ শুরু হলো মুষলধারে বৃষ্টি। তীব্র ঝোড়ো হাওয়া। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা পুরো শহরই কার্যত বিপর্যস্ত।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের খবর অনুযায়ী, কালবৈশাখীর দাপটে ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার । আকাশ কালো করে ঘন ঘন বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টি নেমেছে শহরের বুকজুড়ে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কলকাতা বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিমান দুর্যোগের কারণে অবতরণ করতে না পেরে দীর্ঘক্ষণ আকাশে চক্কর কাটতে বাধ্য হয় এবং নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২ ঘণ্টা পর অবতরণ করে । এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমানও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। গত কয়েকদিনের গুমোট গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পর এই বৃষ্টিতে তাপমাত্রার পারদ এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা নেমেছে । শনিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৩° সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৪° সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে । আবহাওয়া দফতর উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া এবং হুগলি জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে। এই জেলাগুলোতে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পাশাপাশি শিলাবৃষ্টির (Hailstorm) সম্ভাবনাও রয়েছে।

আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী বলা হচ্ছেবঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের কারণে আগামী কয়েকদিন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির এই দাপট অব্যাহত থাকবে । বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি করা হয়েছে ।

দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এবং গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে না দাঁড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন ।

অবশেষে চৈত্র-বৈশাখের এই দহনজ্বালা থেকে সাময়িক মুক্তি পেল শহর। কালবৈশাখীর ঝোড়ো হাওয়া আর অঝোর ধারায় নামা বৃষ্টি জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও, বজ্রপাতের আশঙ্কা এবং নিচু এলাকায় জল জমার ভয় রয়েই গিয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন আকাশ এমনই খামখেয়ালি থাকতে পারে। তাই প্রকৃতির এই রুদ্ররূপ উপভোগ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। শহরবাসী এখন একটাই প্রার্থনা করছেন বৃষ্টি যেন শুধু স্বস্তিটুকু বজায় রাখে, তাণ্ডব নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments