প্রতিদিন সকালে নিজের গ্রামের মন্দিরে প্রণাম করে দিন শুরু করেন অশোক সেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দিনের সূচনায় স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেমে পড়া উচিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে। আর ঠিক সেটাই করে চলেছেন তিনি, নিরবে, নিঃস্বার্থে।
গ্রামের প্রায় তিন থেকে চারটি অসহায় পরিবারের রেশন সামগ্রীর দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন নিজের কাঁধে। মাসের পর মাস ধরে নিরবিচারে এই পরিবারগুলোর খাদ্য জোগাড় করে দিচ্ছেন অশোক বাবু নিজ হাতে।
জল, ঝড়, রোদ—প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই প্রতিনিয়ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি। কোনো বাধাই যেন তাকে থামাতে পারে না।
তবে এখানেই শেষ নয়। সম্প্রতি গ্রামের এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিয়েছেন তিনি। তার এই সহানুভূতিপূর্ণ উদ্যোগ শুধু একজন মানুষের জীবন সহজ করেনি, বরং গোটা গ্রামকেই মনে করিয়ে দিয়েছে—ভালোবাসা আর সহানুভূতির কোনো বিকল্প নেই।
অশোক সেন বলেন, “আমি শুধু চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকতে। এটাই আমার শান্তি।”
তাঁর এই কাজের জন্য কোনো প্রচার বা স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই। দিনের পর দিন, নিঃশব্দে, মানুষের দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নিচ্ছেন তিনি। অশোক সেন আজ শুধু একজন ব্যক্তি নন, হয়ে উঠেছেন গ্রামের আশা, আস্থার আরেক নাম।

