ভবানীপুরে অগ্নিগর্ভ ভোটের মাঠ: শুভেন্দুকে ঘিরে স্লোগান-যুদ্ধ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জ!
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলার রাজনীতির অন্যতম স্নায়ুকেন্দ্র ভবানীপুরে ভোটের উত্তাপ পৌঁছাল চরমে। বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের দিনই কালীঘাটের অলিগলিতে আছড়ে পড়ল রাজনৈতিক সংঘাত। বুথ পরিদর্শনে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিমেষের মধ্যে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠলে জমায়েত হঠাতে এবং শান্তি ফেরাতে রণং দেহি মূর্তি নেয় কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী। তাদের লাঠিচার্জে ছত্রভঙ্গ হয় উন্মত্ত জনতা।
বুধবার ভোটের সকালে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত জয় হিন্দ ভবন এবং কালীঘাট রোড চত্বর পরিদর্শনে যান শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কনভয় এলাকায় পৌঁছতেই পরিস্থিতি আচমকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুভেন্দুকে দেখামাত্রই তৃণমূলের মহিলা কর্মী এবং একদল সমর্থক তাঁকে লক্ষ্য করে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বাতাসে ভাসতে থাকে “চোর-চোর” এবং “জয় বাংলা” স্লোগান। এর পাল্টা হিসেবে বিজেপি সমর্থকরাও “জয় শ্রীরাম” স্লোগান দিতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা স্লোগান-যুদ্ধে কেঁপে ওঠে।
বিক্ষোভের জেরে বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি আটকে গেলে তৈরি হয় চরম অচলাবস্থা। শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তোলেন যে, ভোটারদের ভয় দেখাতে এলাকায় বহু বহিরাগতদের জড়ো করেছে শাসক দল। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তিনি নিজেই সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ফোন করে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
খবর পেয়েই অকুস্থলে ছুটে আসে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু জমায়েত সরাতে গেলে বাহিনীর সাথে আন্দোলনকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি বাগে আনতে বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও মোতায়েন থাকা পুলিশ প্রশাসন। লাঠির ঘায়ে মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যায় রণক্ষেত্র।
পাল্টা অভিযোগ । শুভেন্দু দাবি করেন, এলাকায় বহিরাগতদের নামিয়ে অশান্তি করা হচ্ছে। পরাজয়ের ভয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকজন গুন্ডামি করছে, কিন্তু আমি কোনোভাবেই দমে যাওয়ার পাত্র নই।
স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এলাকায় ভোট শান্তিপূর্ণই হচ্ছিল। শুভেন্দু অধিকারী বিনা কারণে শান্ত এলাকায় ঢুকে সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
ভবানীপুরের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ফের একবার প্রমাণ করল কেন এই কেন্দ্রকে বাংলার রাজনীতির “এপিসেন্টার” বলা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় আপাতত পরিস্থিতি থমথমে এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ভোটের দিন বুথের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠিচার্জ এবং হেভিওয়েট প্রার্থীদের এই রাজনৈতিক লড়াই নির্বাচনের সার্বিক গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেই উত্তর লুকিয়ে রয়েছে আগামী ৪ মে-র ব্যালট বাক্সের ফলাফলেই।

