তিনি পেনশনের অর্থেই সংসার চালান। মেয়ের গ্রেফতারির পর ভেঙে পড়েছিলেন তিনি ।
বৃদ্ধ মায়ের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন তিনি। নিয়মিত খোঁজ নিতেন । মাঝে মধ্যই মায়ের কাছে আসতেন। কিন্তু, অর্পিতা মুখোপাধ্যায় SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন। আপাতত আদালতের নির্দেশে জেল হেফাজতেই রয়েছেন তিনি। কিন্তু, সংশোধনাগারে থাকায় পরও প্রবীণা মায়ের কথা ভোলেননি তিনি, কুরে কুরে খেয়েছে সেই চিন্তা তাকে। সেই চিন্তার কথা ব্যক্তও করেছিলেন অর্পিতা। কিন্তু, তিনি তিনবার তাঁর মাকে ফোন করলেও ফোন ধরেননি মা! সোমবার ব্যঙ্কশাল কোর্টে ভার্চুয়াল শুনানি হয় অর্পিতার। এদিন তাঁর আইনজীবীর তরফে জামিনের আবেদন করা হয়নি। কিন্তু, অর্পিতা বিচারপতিকে জানান, তিনি গত ১৫দিন ধরে মায়ের কোনও খোঁজ পাচ্ছেন না। জেলের নম্বর থেকে ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। মায়ের যাতে খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয় সেই বিষয়ে আবেদন জানানো হয় অর্পিতার আইনজীবীর পক্ষ থেকে। প্রয়োজনে তাঁর দিদির থেকে যাতে সেই খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয় সেই মর্মেও আদালতে আবেদন করেন অর্পিতার আইনজীবী।
উল্লেখ্য, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের মা মিনতি মুখোপাধ্যায় শারীরিকভাবে অসুস্থ হলেও তিনি কারও উপর নির্ভরশীলতা দেখাননি।সঙ্গী বলতে একজন সর্বক্ষণের পরিচারিকা। বেলঘরিয়ার দেওয়ানপাড়ার একটি ভাঙাচোরা বাড়িতে থাকেন তিনি। তাঁর শরীরও ভগ্নপ্রায়। অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির পরই বিভিন্ন লোকজন আসা যাওয়া করতে শুরু করেছিল। সেই সময় পরিচারিকাই আগলে রেখেছিলেন তাঁকেয যাবতীয় বিরক্তির হাত থেকে বাঁচতে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে রাখতেন মিনতিদি ।
সম্প্রতি অতীতে এই সময় ডিজিটাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ” আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে তা ঠিক, “আইনে পুরো বিশ্বাস রয়েছে। আদালত যা সিদ্ধান্ত নেবে তা ঠিক। মেয়ের গ্রেফতারির পরও আক্ষেপ শোনা গিয়েছিল তাঁর কণ্ঠে। একসময় অর্পিতাকে সরকারি চাকরির জন্য বিস্তর সেধেছিলেন তার মা। কিন্তু, মায়ের কথা কানে না তুলে অর্পিতা ছুটে গিয়েছিলেন গ্ল্যামার দুনিয়ার দিকে। কিছু তামিল এবং কন্নড় ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
তবে এদিকে কেন অর্পিতার ফোন তাঁর মা ধরেনি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কবে অর্পিতার আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে তিনি যাতে মা বা দিদির সঙ্গে কথা বলতে পারেন সেই বিষয়ে আলিপুর মহিলা সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছ

