তেল ভর্তি জাহাজ উধাও! যেন নাবিক নয় ,জাদুকর–ক্যাপ্টেন সুক্ষান্ত সিং সান্ধু
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল সমুদ্র, আকাশে ড্রোন আর মিসাইলের আনাগোনা তারই মাঝে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক জলপথ হরমুজ প্রণালী।
চারদিকে যখন ইজরায়েল, ইরান আর আমেরিকার রণহুঙ্কার, ঠিক তখনই একটি বিশালাকার তেলবাহী জাহাজ হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেল রাডার থেকে! প্রায় ১০ দিন কোনো চিহ্ন নেই, যেন সমুদ্রের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে। কিন্তু সব রহস্যের যবনিকা ঘটিয়ে হঠাৎ একদিন জাহাজটি সগৌরবে উদয় হলো মুম্বই বন্দরে। কী এমন গোপন সমঝোতা ছিল এই যাত্রার পেছনে? কীভাবে বিশ্বশক্তির নজর এড়িয়ে এই রহস্যময় জাহাজটি ভারতে পৌঁছাল? এক রোমাঞ্চকর গোয়েন্দা কাহিনীর চেয়েও নাটকীয় সেই সত্য ঘটনাটি আজ সবার মুখে মুখে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সংঘাতের আবহে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ১০ দিন ধরে আটকে থাকা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ শেনলং সুয়েজম্যাক্স অবশেষে ১২ মার্চ ২০২৬, বুধবার মুম্বই বন্দরে সফলভাবে পৌঁছেছে এটি ১,৩৫,৩৩৫ মেট্রিক টন সৌদি অপরিশোধিত তেল বহন করছে। এই জাহাজটি সৌদি আরবের রা’স তানুরা বন্দর থেকে তেল নিয়ে আসছিল। এই জাহাজের নাবিকরা মূলত ভারত, পাকিস্তান এবং ফিলিপাইন—এই তিন দেশের নাগরিক।
জাহাজটির কমান্ডে ছিলেন একজন ভারতীয় নাগরিক, যার নাম ক্যাপ্টেন সুক্ষান্ত সিং সান্ধু। জাহাজটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা পার হওয়ার সময় কিছুক্ষণ “ব্ল্যাকআউট” থেকে আড়ালে চলে গিয়েছিল, যা নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে করা হয়েছিল ।এটিই সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতে আসা প্রথম বড় তেলবাহী জাহাজ, যা ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বস্তি এনেছে। ভারত ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পর এই জাহাজটিকে নিরাপদ পথ দেওয়া হয়।
হরমুজ প্রণালীর এই রহস্যময় ঘটনাটি কেবল একটি জাহাজের নিরাপদে পৌঁছানোর গল্প নয়, বরং এটি ভারতের কৌশলগত কূটনীতি ও আধুনিক সামুদ্রিক বুদ্ধিমত্তার এক অনন্য জয়। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ আর অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারত যেভাবে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই তুলে ধরে। রাডার ফাঁকি দিয়ে মুম্বই উপকূলে এই জাহাজের উদয় যেন এক নিঃশব্দ বারতা দিয়ে গেল—সংকট যত গভীরই হোক, সঠিক কূটনৈতিক সমীকরণ থাকলে উত্তাল সমুদ্রও পথ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

