বাংলাদেশে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়ি
নিউজ ডেস্ক :- বাংলা সিনেমার জগতে ঋত্বিক ঘটক চির পরিচিত নাম। তাঁর অধিকাংশ সিনেমায় বাংলা বিভাগের যন্ত্রনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শেষ জীবন পর্যন্ত দেশভাগের যন্ত্রণা বহন করেছিলেন তিনি। বারে বারে তাঁর সিনেমায় গল্পে উঠে এসেছে দেশভাগ নিয়ে আক্ষেপ, পদ্মাপারের বৃত্তান্ত। অনেকদিন হল ঋত্বিক আর নেই। তবে, বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার মিয়াপাড়া এলাকায় এতদিন পর্যন্ত টিকে ছিল তাঁর পৈতৃক বাড়িটি। এবার চূড়ান্ত নৈরাজ্যর মধ্যে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল ঋত্বিক কুমার ঘটকের পৈত্রিক ভিটেটাও। ধ্বংসস্তুপ ছাড়া আর সেই বাড়ির কিছু পড়ে নেই। এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজশাহী তথা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে। তাঁরা সকলেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এই ঘটনায়।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, তাঁর বাড়ি ভাঙার সঙ্গে কোনো রাজনীতির যোগ নেই। বরং আঙুল উঠছে ওই বাড়ি সংলগ্ন এক হোমিওপ্যাথি কলেজের অধ্যক্ষের দিকে। এই ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। রাজশাহীর জেলাশাসক জানিয়েছেন, যারা এই বাড়ি ভাঙার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শৈশব, কৈশোর ও তারুণ্যের একটা বড় সময় এই বাড়িতেই কাটিয়েছিলেন ঋত্বিক ঘটক। পড়াশোনা করতেন রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজে। তাঁকে কেন্দ্র করে তখন থেকেই রাজশাহীতে সাহিত্য ও নাট্য আন্দোলন গতি পেয়েছিল। শুধু ঋত্বিক একাই নন, এই বাড়িতে থাকতেন তাঁর ভাইঝি তথা বরেণ্য কথা সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীও। ১৯৮৯ সালে, বাড়িটির ৩৪ শতাংশ জমি সরকার রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজকে ইজারা দেওয়া হয়েছিল। এবার তারাই পুরোটা গ্রাস করতে চাইছে।

