Wednesday, April 29, 2026
- Advertisement -

মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিক ফেরা! জ্বলন্ত বহুতল থেকে লাফিয়ে বাঁচলেন ৫০ জন তরুণী, হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর

- Advertisement -

মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিক ফেরা! জ্বলন্ত বহুতল থেকে লাফিয়ে বাঁচলেন ৫০ জন তরুণী, হাড়হিম করা ঘটনার সাক্ষী থাকল শহর

 

অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: মাঝরাতে চারদিকের নিস্তব্ধতা ভেঙে হড়বড় করে গ্রাস করতে শুরু করল কালো ধোঁয়া। চোখের পলকে সেই ধোঁয়া বদলে গেল দাউদাউ লেলিহান শিখায়। বহুতলের সবকটি প্রস্থানের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে চরম আতঙ্ক। নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে উপায় না পেয়ে প্রায় ৫০ জন তরুণী চারতলার ব্যালকনি ও পাঁচিল টপকে নিচে লাফ দিতে বাধ্য হলেন। বেঙ্গালুরুর একটি মহিলা পিজি আবাসনে ঘটে যাওয়া এই শিউরে ওঠার মতো দুর্ঘটনা যেন সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানায়, যেখানে শুধুমাত্র উপস্থিত বুদ্ধি এবং বাঁচার অদম্য ইচ্ছার জোরে এড়ানো গেছে এক বিশাল ট্র্যাজেডি।

 

ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল রবিবার গভীর রাতে বেঙ্গালুরুর নন্দিনী লেআউটের একটি এলএইডি (LED) ব্যানার ও সাইনেজ তৈরির গুদামে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই প্রথম আগুনের ফুলকি ছড়ায়। গুদামে প্রচুর দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন লাগার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা সংলগ্ন ৪ তলা মহিলা পিজি (PG) বিল্ডিংটিকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে নেয়।

সে সময় আবাসনের ভেতরে প্রায় ৫০ জন তরুণী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। আগুনের তাপে এবং পোড়া প্লাস্টিকের তীব্র ধোঁয়ায় তাঁদের শ্বাস নিতে কষ্ট হতে শুরু করে। আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা দেখেন, নিচে নামার প্রধান সিঁড়ির পথটি ততক্ষণে দাউদাউ করে জ্বলছে। কোনো উপায় না দেখে এবং প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে তরুণীরা উঁচু পাঁচিল বেয়ে এবং আবাসন চত্বরের ভেতর থেকে নিচে ঝাঁপ দিতে শুরু করেন। নিচে উপস্থিত স্থানীয় মানুষজন এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা চাদর ধরে ও নানাভাবে তাঁদের নিরাপদে ক্যাচ করার চেষ্টা চালান।

খবর পেয়ে দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটকে পড়া বাকিদের উদ্ধার করে। এই ভয়ংকর ঘটনা থেকে সমস্ত তরুণীই প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। তবে লাফ দেওয়ার কারণে কয়েকজনের সামান্য চোট লেগেছে। অগ্নিকাণ্ডে গুদামের পাশে থাকা বেশ কিছু গাড়ি এবং মোটরসাইকেল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

 

অলৌকিকভাবে এই ৫০ জন তরুণীর প্রাণ বাঁচলেও এই ঘটনা আবারও শহরের ঘিঞ্জি এলাকার বহুতল ও পিজি আবাসনগুলোর অগ্নি-সুরক্ষা বিধি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল। মিশ্র ব্যবহারের এই বহুতলগুলোতে জরুরি অবস্থায় বেরোনোর বিকল্প পথ বা ফায়ার এক্সিট না থাকায় এতগুলো তরতাজা প্রাণ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই ধরনের অবৈধ ও অসুরক্ষিত বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনগুলোর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অভিভাবককে নিজের সন্তানের প্রাণ নিয়ে এমন আশঙ্কায় ভুগতে না হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments