যান্ত্রিক ত্রুটি না কি নেপথ্যে ষড়যন্ত্র? টানা ব্যর্থতায় প্রশ্নের মুখে ইসরোর ‘কাজের ঘোড়া’ পিএসএলভি
স্বর্ণালী হালদার, কলকাতা :— যান্ত্রিক ত্রুটি না কি নেপথ্যে ষড়যন্ত্র? টানা ব্যর্থতায় প্রশ্নের মুখে ইসরোর ‘কাজের ঘোড়া’ পিএসএলভি।
নতুন বছরের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ইসরো। ফের ব্যর্থ হল দেশের ভরসার রকেট পিএসএলভি। একসঙ্গে ১৫টি কৃত্রিম উপগ্রহকে মহাকাশে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে মাঝপথেই ভেস্তে যায় অভিযান। আশ্চর্যের বিষয়, গত বছর মে মাসেও একই ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়েছিল পিএসএলভি। এক বছরের মধ্যে দু’বার ব্যর্থতা ইসরোর মতো সংস্থার ক্ষেত্রে বিরল, আর সেখান থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে পিএসএলভি-কে ইসরোর ‘কাজের ঘোড়া’ বলা হয়। কম খরচে নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলেও এর সুনাম রয়েছে। সেই রকেটই বারবার মুখ থুবড়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানী মহল। ইসরোর প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট এক ধাপে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়েছিল, যার জেরে নিরাপত্তার স্বার্থে মিশন বাতিল করা হয়। তবে ঠিক কী ধরনের যান্ত্রিক সমস্যা, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে বিশ্লেষকদের একাংশ অন্য প্রশ্নও তুলছেন। পরপর দু’বার একই রকেটের ব্যর্থতা কি শুধুই কাকতালীয়? নাকি এর নেপথ্যে কোনও অন্তর্ঘাত বা সাইবার হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে? যদিও ইসরোর তরফে এখনও পর্যন্ত অন্তর্ঘাতের ইঙ্গিত স্পষ্ট ভাবে অস্বীকার করা হয়নি, আবার নিশ্চিত করেও কিছু বলা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক মহাকাশ অভিযানে সাইবার নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ, তবে প্রমাণ ছাড়া এমন অভিযোগে পৌঁছনো ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে, এই ব্যর্থতা ইসরোর জন্য বড় শিক্ষা। তদন্তের ফল কী আসে, তার দিকেই তাকিয়ে দেশ। কারণ পিএসএলভি শুধু একটি রকেট নয়, ভারতের মহাকাশ অভিযানের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

