রণক্ষেত্র তুফানগঞ্জ: প্রধানমন্ত্রীর সভা থেকে ফেরার পথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, কাঠগড়ায় তৃণমূল
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: রবিবাসরীয় দুপুরে মোদীর গর্জনে কেঁপে উঠেছিল কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান। কিন্তু সভার রেশ কাটতে না কাটতেই জেলাজুড়ে ছড়ালো অশান্তির আগুন। প্রধানমন্ত্রীর হাইভোল্টেজ সভা সেরে বাড়ি ফেরার পথে তুফানগঞ্জের একাধিক জায়গায় বিজেপি কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠল। মারুগঞ্জ থেকে দেওচড়াই—রাতের অন্ধকারে মুহুর্মুহু ইটবৃষ্টি আর ভাঙচুরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। একদিকে যখন আক্রান্ত কর্মীদের রক্তে ভিজল রাজপথ, অন্যদিকে তখন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে তুঙ্গে উঠল রাজনৈতিক তরজা।
গতকাল রাতে অর্থাৎ ৫ এপ্রিল কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা সেরে ফেরার পথে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে । তুফানগঞ্জের মারুগঞ্জ ও দেওচড়াই এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। রবিবার রাতে কোচবিহারের সভা শেষ করে অটো ও বাসে করে বাড়ি ফেরার সময় তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের মারুগঞ্জ এবং তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের দেওচড়াই টোল গেট এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে । বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের বারোকোদালি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। হামলায় অন্তত তিনজন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন এবং কর্মীদের বহনকারী অটোর কাঁচ ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিজেপির দাবি মারুগঞ্জ বাজারে তৃণমূলের একটি মিছিল থেকে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এর প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা রাতে দেওচড়াই টোল গেট এলাকায় পথ অবরোধ করেন ।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিয়ে তাদের মিছিল চলাকালীন বিজেপির গাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া হয়েছিল এবং স্থানীয়রা তার প্রতিবাদ জানিয়েছে । পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে তুফানগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের আশ্বাসে পরবর্তীকালে বিজেপি কর্মীরা পথ অবরোধ তুলে নেন ।
এছাড়া, সভায় যাওয়ার পথেও কোচবিহারের মাথাভাঙা এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বাধা দেওয়া ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল, যাতে একজন কর্মীর মাথা ফেটে যায় ।
প্রধানমন্ত্রীর সভার পর তুফানগঞ্জের এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
একদিকে বিজেপি যখন এই হামলাকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে সরব হয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে বিজেপির অন্তর্কলহ বা প্ররোচনা হিসেবেই দেখছে। তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই আবর্তে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আজ বড়সড় প্রশ্নের মুখে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও পুলিশের সক্রিয়তা ওই এলাকায় সাময়িক শান্তি ফেরালেও, নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরণের সংঘাত যে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

