Wednesday, April 22, 2026
- Advertisement -

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের হেল্পলাইন পরিষেবায় উপকৃত পূর্ব বর্ধমান নিবাসী প্রাণী পালক সঞ্জয় ধারা

- Advertisement -

নিজস্ব প্রতিনিধি, পূর্ব বর্ধমান :- রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের হেল্পলাইন পরিষেবায় উপকৃত পূর্ব বর্ধমান নিবাসী প্রাণী পালক

সঞ্জয় ধারা (৪২), পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের অন্তর্গত বগপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাটরা গ্রামের অভিজ্ঞ কৃষক তথা রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল ফার্ম স্কুল এর সক্রিয় উপভোক্তা। মেধাবী সঞ্জয় কলা বিভাগে স্নাতক হওয়ার পর চাকরির পরিবর্তে পারিবারিক কৃষি কাজেই আত্মনিয়োগ করেন। পাঁচ সদস্যের পরিবারের জীবন জীবিকা পশুপালন, তিন ফসলি ধান (আমন, আয়ুস, এবং বোরো) ও সবজি চাষের উপরেই নির্ভরশীল, বিশেষ করে শশা, বেগুন, আলু, সর্ষে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পাশাপাশি রয়েছে পাট চাষ। পাঁচ বছরের একমাত্র পুত্র বিদ্যালয় পাঠরত। কৃষি ও পশুপালন থেকে বার্ষিক আনুমানিক আয় ১.২০ লক্ষ টাকা, যা পাঁচ সদস্যের পরিবারের পক্ষে মোটামুটি স্বচ্ছল।

সঞ্জয় রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের সাথে পরিচিত হন জানুয়ারী ২০২১ সালে টোল ফ্রী হেল্পলাইন কার্ডের মাধ্যমে। পরবর্তী সময় পরিচয় হয় ফাউন্ডেশনের জেলা প্রতিনিধি সঞ্জিত ধারার সাথে এবং ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। এরপর যে কোনো প্রয়োজনেই হেল্পলাইন নম্বরের মাধ্যমে কৃষি বিশেষজ্ঞদের সাথে তথ্য আদান প্রদান করে সমৃদ্ধ হন। সঞ্জয় বাবুর কৃষি ফসলের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো লাল তিল চাষ। ৩ একর জমিতে দীর্ঘ দিন ধরেই তিল চাষ করে আসছেন।

পাশাপাশি রয়েছে পশু পালন। সঞ্জয় বাবুর বর্তমানে ১ টি গরু ও ২ টি বাছুর আছে। আগষ্ট মাস,২০২২ এ সঞ্জয় বাবুর গরুটি একটি বাছুর দিয়েছিল। বাছুরটি রাত্রে হয়েছিল বলে তিনি বুঝতে পারেন নি যে ঐ গরুটির ফুল পরেছিল কিনা, সাধারনতো গরু বাচ্চা দেওয়ার ১-২ ঘন্টার মধ্যে গরুর শরীর থেকে ফুল বেরিয়ে যায়। অনেক সময় গরু বাচ্চা দেওয়ার পর প্রচন্ড ক্ষুধায় থাকে,তাই গরু অনেক সময় সেই ফুলটি খেয়ে নেয়।সঞ্জয় বাবু সেটি ভেবেছিলেন যে, গরুটি হয়তো সেই ফুলটি খেয়ে ফেলেছেন কিনা। কিন্তু সঞ্জয় বাবু ১-২ দিন পর থেকে লক্ষ্য করেন যে,গরুটির প্রচন্ড গ্যাস হচ্ছে এবং গরুটি খাওয়া পুরো বন্ধ করে দিয়েছিল। তিনি সাথে সাথে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের টোল ফ্রি নাম্বারে ফোন করেন এবং সমস্যার কথা পশু বিশেষজ্ঞকে জানান। পশু বিশেষজ্ঞর মাধ্যমে সঞ্জয় বাবু জানতে পারেন যে,গরুটির বাচ্চা হওয়ার পর ফুলটি শরীরের মধ্যে থেকে গেছে। পশু বিশেষজ্ঞ সঞ্জয় বাবুকে কিছু মেডিসিন এবং লোকাল পশু বিশেষজ্ঞর সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। কারন শরীরের মধ্যে যে ফুলটি থেকে গেছে সেটা কোনো লোকাল পশু বিশেষজ্ঞই বের করতে পারবে ওয়াশের মাধ্যমে। তিনি চেষ্টা করেও লোকাল পশু বিশেষজ্ঞর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন নি। তাই তিনি রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের জেলা প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ করেন এবং সমস্ত সমস্যার কথা বলেন। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের জেলা প্রতিনিধি লোকাল সরকারি পশুপালন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করেন এবং পুরো বিষয়টি বিভাগের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি কে জানান। সরকারি পশুপালন বিভাগ,পূর্ব বর্ধমানের সাথে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন বিগত ৫ বছর থেকে কাজ করছে।পশুপালন বিভাগের সর্বোচ্চ প্রতিনিধি একজন পশু বিশেষজ্ঞকে সঞ্জয় বাবুর গরুটির সমস্যা সমাধানের জন্য তার বাড়িতে পাঠান।পশু বিশেষজ্ঞ গরুটিকে ওয়াশ করে ফুলটি শরীর থেকে বের করে দেন। ১-২ দিনের মধ্যে গরুটি সুস্থ হয়ে ওঠে। সঞ্জয় বাবু সম্পূর্ণ পরিষেবাটি বিনা মূল্যে পান।

এছাড়া সঞ্জয় জানুয়ারি মাস,২০২৩ এ আরেকটি সমস্যায় পরেন। সেই গরুটি ১ দিনে প্রায় ৭ কেজি দুধ দেয়। যার মধ্যে ১ কেজি নিজেরা খায় ও বাকি ৬ কেজি বাজারে বিক্রি করে, যার বাজার মূল্য ৪০ টাকা প্রতি কেজি। মাসে প্রায় ৭২০০ টাকা তার গরুর দুধ বিক্রি করে আসতো। জানুয়ারি মাস,২০২৩ এ গরুটির বাঁটে ঘা হয়, যার ফলে গরুটি ২-৩ কেজি দুধ দেওয়া কমিয়ে দেয়।ফলে তখন তিনি বাজারে কম দুধ বিক্রি করতে পারতেন। তিনি প্রচন্ড চিন্তায় পরেছিলেন।সেই সময় তিনি টোল ফ্রি হেল্প লাইনে ফোন করে তার সমস্যার কথা বলেন এবং রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের Whats app গ্রুপে গরুর ঘা-টার ফটো তুলে পাঠান। পশু বিশেষজ্ঞদের যথাযতো পরামর্শ দেন। । তিনি ক্রমাগত টোল ফ্রি হেল্প লাইনে ফোন করেন এবং মোটামুটি ৭-১০ দিনের পর সেই গরুটির বাঁটে ঘা ঠিক হয় এবং পুনরায় গরুটি ৭ কেজি করে দুধ দেয়। পুনরায় তিনি আবার দুধ বাজারে বিক্রি করতে থাকেন।

হেল্পলাইন থেকে পরিষেবা পাওয়া ছাড়াও রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের আরো একটি আধুনিক উদ্যোগ ডিজিটাল ফার্ম স্কুল। ইতিমধ্যেই জুলাই ২০২২ সাল থেকে কালনা-২, পূর্বস্থলী-১ এবং ২ নম্বর ব্লকের ছয়টি গ্রামের ১৫০ জন কৃষককে নিয়ে চলছে এই ফার্ম স্কুল। সঞ্জয়ের মতো অন্যান্য কৃষকরাও এই স্কুল থেকে আধুনিক কৃষির বিষয়গুলি রপ্ত করে একদিকে চাষের খরচ কমাচ্ছেন, অন্যদিকে বেড়েছে উৎপাদিকা শক্তি। পাশাপাশি আবহাওয়া সংক্রান্ত ভয়েস বার্তা থেকে কৃষক প্রাক বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করার ফলে ফসলের ক্ষতিও আগের থেকে বহুগুন কমেছে। ফল্যরূপ সুনিশ্চিত হয়েছে কৃষকের ক্ষমতায়ন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments