রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেলেন বাঁকুড়া নিবাসী মৎস্যজীবী উত্তম রায়
বাঁকুড়া জেলার জয়পুর ব্লকের অন্তর্গত বাঁশি গ্রামের বাসিন্দা উত্তম রায় (৫৫)। পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটির জীবিকা সম্পূর্ণভাবে মিশ্র কৃষির উপর নির্ভরশীল। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ উত্তম বাবু ছোট বেলা থেকেই পারিবারিক কৃষি কাজের সাথে যুক্ত।
বর্তমানে তিন বিঘা ও চার কাঠা সহ দুটি পুকুরে মাছ চাষ, ১০ বিঘা জমিতে ধান ও সবজি চাষ এবং দুটি গাভী রয়েছে উত্তমবাবুর। কৃষি ও কৃষি সম্পর্কিত এই ক্ষেত্র থেকে বাৎসরিক রোজগার প্রায় দেড় লাখের কাছাকাছি।
উত্তম বাবু রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের নিঃশুল্ক হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ৪১৯ ৮৮০০ সহ অন্যান্য তথ্য পরিষেবার কথা জানতে পারেন ২০২০ সালের জানুয়ারী মাসে জয়পুর কৃষিমেলায় রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন-এর স্টল থেকে। এরপর প্রয়োজনে ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে তথ্য আদান প্রদান করতে থাকেন। কিন্তু
গত বছর বর্ষার সময় চার কাঠার পুকুরটিতে উত্তমবাবু ডিম পোনার চাষ করেন, কিন্তু একটু মাছ বড়ো হওয়ার পরেই সকালের দিকে কিছু মাছ মরে ভাসতে থাকে। এমতাবস্থায় আর দেরি না করে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন এর টোল ফ্রী নম্বরে মৎস্য বিশেষজ্ঞ ডক্টর অনিন্দ্য নায়কের সাথে যোগাযোগ করেন এবং সমস্যার কথা জানান। সমস্যার প্রকৃতি অনুধাবন করে ডক্টর অনিন্দ্য নায়ক প্রয়োজনীয় ওষুধ সহ পাম্প করে পুকুরের জল ওই পুকুরেই আবার ফেলতে বলেন। উত্তম বাবু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োগ করলে কয়েক দিনের মধ্যেই মাছ মরা বন্ধ হয় যায়। কিন্তু সম্প্রতি আবার তিন বিঘার পুকুরটিতে একই সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞের সুপারিশমতো একই পদ্ধতি অনুসরণের পাশাপাশি বিকেল বেলায় পটাশিয়াম পারম্যঙ্গানেট ও চুন ব্যবহার করে উপকৃত হন। উত্তম বাবু এই তিন বিঘার পুকুরটিতে মিষ্টি জলের মাছ চাষ করেছিলেন (Indian Major Carp বা IMC)। চার কাঠা ও তিন বিঘার পুকুরে মাছ চাষের খরচ সর্বমোট প্রায় ৪৫,০০০/- টাকা। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের পরিষেবায় উপকৃত হয়ে উত্তম বাবু চার কাঠার পুকুর থেকে ফলন পেয়েছেন প্রায় তিন কুইন্টাল এবং তিন বিঘার পুকুরে প্রায় নয় কুইন্টাল। গড় মূল্য ডিম পোনা প্রতি কেজি ৭০/- টাকা এবং মিষ্টি জলের মাছ প্রতি কেজি প্রায় ১০০/- টাকা। খরচ বাদ দিয়ে নীট মুনাফা প্রায় ৬৫,০০০/- টাকা।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের পরামর্শে উপকৃত উত্তম বাবু বলেন ” কৃষিই আমাদের জীবন জীবিকা। কিন্তু প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকরা সঠিক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু এখন আমরা যে কোনো সমস্যায় ঘরে বসেই কৃষি বিশেষজ্ঞের সাথে তথ্যালাপ করতে পারি। ফলে কমেছে ক্ষতির পরিমান, বেড়েছে উৎপাদন ও মুনাফা। ” এভাবেই গ্রাম বাংলার অগণিত কৃষকের কৃষকমিত্র রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ।

