রোদে নামার আগে সাবধান! জেনে নিন হিটস্ট্রোক এড়ানোর মন্ত্র
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: চৈত্র-বৈশাখ আসতেই রাজ্যের তাপমাত্রা পারদ চড়তে শুরু করেছে। তীব্র দাবদাহে জনজীবন নাজেহাল। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা করছেন ‘হিটস্ট্রোক’ নিয়ে।
শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গেলে এবং শরীর সেই তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে মানুষ হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে যে পদক্ষেপগুলো মেনে চলা উচিত আমাদের
১. জলের বিকল্প কিছুই নেই! তেষ্টা না পেলেও নিয়ম করে জল পান করুন। বাইরে বেরোলে সাথে জলের বোতল রাখুন। শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া নুন ও খনিজ পূর্ণ করতে ORS , ডাবের জল বা নুন লেবুর শরবত পান করা উপকারী।
২. রোদে বেরোলে সবসময় হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। সরাসরি রোদ এড়াতে বড় ছাতা, টুপি এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন। ৩. দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত রোদ সবচেয়ে প্রখর থাকে।
এই সময়ে খুব জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারী শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম এই সময়ে এড়িয়ে চলুন। ৪. খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনুন। গরমে মশলাদার ও তেলজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। সহজপাচ্য খাবার এবং প্রচুর জলীয় অংশ আছে এমন ফল (যেমন- তরমুজ, শসা) খাদ্যতালিকায় রাখুন। চা, কফি বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় শরীরকে জলশূন্য করে দিতে পারে, তাই এগুলো কম খাওয়াই ভালো।
৫. যদি শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হয়, ঘাম বন্ধ হয়ে ত্বক শুষ্ক ও লাল হয়ে যায়, প্রবল মাথাব্যথা বা বমি বমি ভাব শুরু হয়, তবে বুঝতে হবে এটি হিটস্ট্রোকের লক্ষণ। এমন অবস্থায় দ্রুত রোগীকে ছায়ায় নিয়ে এসে ঠান্ডা জল দিয়ে শরীর মুছিয়ে দিতে হবে এবং অতি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একটু সচেতনতাই পারে এই ভয়াবহ গরমের হাত থেকে জীবন রক্ষা করতে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই নিয়মগুলো মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
প্রকৃতির এই রুদ্ররূপকে উপেক্ষা করার উপায় নেই, তবে সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতাই হতে পারে আমাদের প্রধান ঢাল। সামান্য অবহেলা বড়সড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই রোদে বের হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিন এবং নিজের পাশাপাশি আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখুন। মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। আপনার একটু সচেতনতাই পারে এই দহনবেলায় আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে।

