আমি হারব? তোরা হারবি সারা দেশ—ভবানীপুর থেকে মোদীকে তীব্র পাল্টা চ্যালেঞ্জ মমতার
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পারদ সপ্তমে চড়িয়ে এবার মুখোমুখি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামের স্মৃতি উসকে দিয়ে মোদী যখন ভবানীপুরে মমতার পরাজয়ের ভবিষ্যৎবাণী করছেন, ঠিক তখনই রণংদেহি মেজাজে পাল্টা তোপ দাগলেন তৃণমূল নেত্রী। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাপট আর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, “ভবানীপুরে আমরা নাকি হারব? তোরা হারবি, সারা দেশ হারবি!” নিজের ঘরের মাঠে দাঁড়িয়ে মোদী-শাহ জুটিকে কার্যত তুলোধোনা করে মমতা বুঝিয়ে দিলেন, ভবানীপুরের লড়াই এবার কেবল একটি কেন্দ্রের জয়-পরাজয় নয়, বরং ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে বিজেপির পতনের সূচনা।
নন্দীগ্রামের পরাজয়ের স্মৃতি উসকে মোদীর ‘ভবানীপুর জয়’-এর দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী। ভবানীপুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে বাদানুবাদ বর্তমানে চরম তুঙ্গে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ভবানীপুর কেন্দ্রটি পুনরায় রাজনৈতিক লড়াইয়ের এপিসেন্টার হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছেন যে, গত নির্বাচনে নন্দীগ্রামে যা ঘটেছিল (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়), ভবানীপুরেও ঠিক তার পুনরাবৃত্তি হবে । এর পাল্টা জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মোদী ও বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন যে, বিজেপি দাবি করছে তিনি ভবানীপুরে হারবেন, কিন্তু আসলে বিজেপি শুধু বাংলা নয়, আগামীতে গুজরাটেও হারবে এবং সারা দেশ থেকেই তারা ক্ষমতা হারাবে।ভবানীপুরে কয়েক হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে মমতা কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় যদি মাত্র একজন ভোটারও পড়ে থাকে, তাহলেও আমি ভবানীপুর থেকেই জিতব।
নিজের মনোনয়ন পেশের সময় তিনি ভবানীপুরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ হিসেবে তুলে ধরেন এবং সর্বধর্মের মানুষকে পাশে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিয়ে বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির পাল্টা জবাব দেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী হলদিয়ার সভা থেকে দাবি করেছেন যে, নন্দীগ্রাম যেমন পরিবর্তনের পথ দেখিয়েছিল, ভবানীপুর এবার সেই পথেই হাঁটবে এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন যে, এই কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ই হবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের ‘শর্টকাট’ । বিজেপি নেতারা বারবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং ভোটার তালিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ আনছেন।
ভবানীপুরের এই লড়াই এখন আর কেবল একটি বিধানসভা কেন্দ্রের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা পরিণত হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম নরেন্দ্র মোদীর এক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। একদিকে বিজেপি যখন নন্দীগ্রামের জয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে তৃণমূলের দুর্গে ভাঙন ধরাতে মরিয়া, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ‘ঘরের মেয়ে’ হিসেবে নিজের মাটি কামড়ে পড়ে থেকে মোদীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা—সব বিতর্ককে ছাপিয়ে এখন দেখার, আগামী ৪ মে ভবানীপুরের মানুষ কার দিকে রায় দেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই “তোরা হারবি, সারা দেশ হারবি” হুঙ্কার শেষ পর্যন্ত ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির পতনের পূর্বাভাস হয়ে দাঁড়ায় কি না, সেটাই এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

