তবে কি এবার নতুন বদল তৃণমূল কংগ্রেসে!
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা :— আগামী বিধানসভা ও রাজ্যসভা নির্বাচনকে পক্ষীর চক্ষুর ন্যায় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিশেষ করে আইনি ও পেশাদার মহলে দলের প্রভাব বাড়াতে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সামিল করা হচ্ছে।
সেই হিসাবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে রাজ্যসভায় মনোনীত করার ঠিক পরেই, ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে কলকাতা হাইকোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী এবং সুপরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সৌরভ চন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। রাজ্য মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে ঘাসফুল শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নিয়ে তিনি বাংলার উন্নয়ন ও বিচারবিভাগের মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে সামিল হওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। রাজ্য মন্ত্রী তথা তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে সৌরভ চন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন।
উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘মার্বেল প্যালেস’ পরিবারের এই সদস্য পেশাগত জীবনে যেমন সফল, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর খ্যাতি কতখানি তা আমরা প্রত্যেকেই অবগত। তাঁর মতো মেধাবী ও তরুণ আইনজীবী তৃণমূল কংগ্রেস কে নতুন মোড় দেবে। কিন্তু কেন এই দল বদল?
সৌরভ চন্দ্র বলেন বিজেপি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যার বিরুদ্ধে আইনি পথে লড়াই করা জরুরি।বাংলার উন্নয়ন এবং কৃষ্টি রক্ষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ে শামিল হওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।তাঁর অভিযোগ, বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে তিনি তৃণমূলের কংগ্রেসে থেকে সোচ্চার হবেন তাই এমন সিদ্ধান্ত।
একদিকে মেনকা গুরুস্বামীর মতো জাতীয় স্তরের আইনি ব্যক্তিত্ব এবং অন্যদিকে সৌরভ চন্দ্রের মতো স্থানীয় স্তরের প্রভাবশালী আইনজীবীকে দলে টেনে বিজেপিকে আদালতের ভেতরে ও বাইরে—উভয় ক্ষেত্রেই চাপে রাখার কৌশল নিচ্ছে শাসক দল। সৌরভ চন্দ্রকে দলে স্বাগত জানিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ এবং তাঁর লড়াই দেখে অনুপ্রাণিত হয়েই সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষ তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।
তাঁর মতো মেধাবী ও তরুণ এর যোগদান দলের আইনি সক্ষমতা এবং বৌদ্ধিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে । সৌরভ চন্দ্রের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ায় তাঁর এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষকে তথা পুরো সোশ্যাল মিডিয়ায় এক এক জন এর এক – এক রকম মতামত কেও বলে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ মনে করছেন যে, সৌরভ চন্দ্রের মতো শিক্ষিত এবং মার্জিত রুচির আইনজীবীরা রাজনীতিতে এলে সামগ্রিকভাবে রাজনীতির মান উন্নত হবে। আবার অনেকের মতে, উচ্চশিক্ষিত যুবক-যুবতীরা ময়দানে না নামলে পরিবর্তন আসবে না।
সৌরভ চন্দ্রের হাত ধরে তৃণমুল উত্তর কলকাতায় তাদের সাংগঠনিক ও আইনি ভিত আরও মজবুত করল। একদিকে রাজকীয় বংশমর্যাদা আর অন্যদিকে প্রখর আইনি মেধা এই দুইয়ের মেলবন্ধনে তৃণমূল কংগ্রেস যে এক নতুন শক্তিতে বলীয়ান হলো, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

