পথের লড়াই থেকে ভোটের ময়দান! উত্তরপাড়ায় বামপ্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: সিপিএম এর প্রার্থী ঘোষণা উত্তরপারা বিধানসভায়। শক্ত হাতে লড়বেন মীনাক্ষী। সামনাসামনি টক্কর দিয়ে জয় ছিনিয়ে নিতে প্রস্তুত। রাজনীতির এই শক্ত ঘাঁটিতে মীনাক্ষীকে প্রার্থী করেছে সিপিআইএম । ২৩শে এপ্রিল উত্তরপাড়ার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে । বামেদের আশা, মীনাক্ষীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক অধ্যুষিত এই জনপদে বড়সড় পরিবর্তন আনবে। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে হুগলির উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের প্রার্থী হওয়া রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে বামেরা মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে একজন লড়াকু তরুণী মুখ হিসেবে তুলে ধরছে।একসময় নন্দীগ্রামের হেভিওয়েট লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, সেই লড়াকু নেত্রীকেই এবার উত্তরপাড়ার মাটি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব দিয়েছে আলিমুদ্দিন। ডিওয়াইএফআই এর রাজ্য সম্পাদক হিসেবে মীনাক্ষী গত কয়েক বছরে বেকারদের কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করে সাধারণ মানুষের কাছে ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
উত্তরপাড়া কেন্দ্রটি মূলত তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে গত তিনবার তারা জয়ী হয়েছে । ২০২১ সালে এখান থেকে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক জয়ী হয়েছিলেন । তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভা এলাকায় সিপিআইএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধর উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন, যা বামেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ২০২১-এ মীনাক্ষী নন্দীগ্রামের মতো কঠিন আসনে লড়েছিলেন । এবার তাকে উত্তরপাড়ায় পাঠানোর মাধ্যমে সিপিআইএম মূলত মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক অধ্যুষিত শিল্পাঞ্চলে তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। প্রার্থী হিসেবে নাম চূড়ান্ত হওয়ার অনেক আগে থেকেই মীনাক্ষী উত্তরপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছিলেন । সম্প্রতি হুগলির নবগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার এবং গণতহবিল সংগ্রহ অভিযানে অংশ নেন । এছাড়াও উত্তরপাড়ার শ্রীরামপুর লোকসভা এলাকায় মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে তাঁর বড় জনসভাও হয়েছে ।
মীনাক্ষীকে এই আসনে প্রার্থী করা নিয়ে দলের ভেতরে কিছুটা মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে খবর পাওয়া যায় । শ্রীরামপুর লোকসভায় ভালো ফল করা দীপ্সিতা ধরকে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করার দাবি উঠেছিল দলের একটি অংশের পক্ষ থেকে । তবে শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে মীনাক্ষীর অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রেখেছে । মীনাক্ষীর পাশাপাশি এই দফার তালিকায় আরও কিছু বড় নাম রয়েছে, যেমন যাদবপুর থেকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং দমদম উত্তর থেকে দীপ্সিতা ধর লড়ছেন পুরোদমে।
মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের উত্তরপাড়া থেকে লড়াই কেবল একটি আসন জয়ের চেষ্টা নয়, বরং বামেদের ঘুরে দাঁড়ানোর এক বড় বাজি। রাজপথের লড়াকু নেত্রী থেকে ‘ক্যাপ্টেন’ হয়ে ওঠা মীনাক্ষী এবার মধ্যবিত্ত ও শ্রমিক অধ্যুষিত উত্তরপাড়ার মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছেন। হারানো জমি পুনরুদ্ধারে তাঁর এই জেদ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিই এখন সাধারণ মানুষের কাছে প্রধান আলোচনার বিষয়। ফলাফল যাই হোক, ২৩শে এপ্রিলের ভোট বাংলার রাজনীতিতে মীনাক্ষীর লড়াকু পরিচয়কে আরও এক ধাপ এগিয়ে দেবে।

