নিজামুদ্দিন শেখ (৫৮), মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম ব্লকের অন্তর্গত খোজারডাঙ্গা গ্রামের অভিজ্ঞ ও প্রগতিশীল কৃষক। কৃষিতে নতুন উদ্ভাবনী কৌশল প্রয়োগ করার জন্য নিজামুদ্দিন সমাদৃত। উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ নিজামুদ্দিনের পরিবারের সদস্য সংখ্যা চার জন। কৃষি জমির পরিমান দুই একরের অধিক। মূল কৃষি ফসল দু ফসলি ধান (আমন ও বোরো), সর্ষে, পেয়াঁজ ও আলু।
নিজামুদ্দিন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের ডিজিটাল ফার্ম স্কুল এর সাথে যুক্ত হন অক্টোবর ২০২২ সালে। এই ডিজিটাল ফার্ম স্কুল-এ বর্তমানে বেলডাঙা-১, নবগ্রাম এবং বহরমপুর ব্লকের প্রায় ১৫০ কৃষক যুক্ত। প্রায় সকলেই বাণিজ্যিকভাবে সর্ষে এবং ধান চাষে যুক্ত। ডিজিটাল ফার্ম স্কুল ছাড়াও নিজামুদ্দিন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ৪১৯ ৮৮০০ এবং বিভিন্ন কৃষি সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের নিয়মিত সদস্য। বিগত জুন ২০২৩ মাসে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নবগ্রাম ব্লক কৃষি আধিকারিকের কার্যালয়ের সাথে যৌথ উদ্যোগে একটি কনভার্জেন্স কর্মসূচি পালিত হয়। এই কর্মসূচিতে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের সহায়তা প্রাপ্ত ১০-জন কৃষককে ধানের ডেমন্সট্রেশন সেন্টার অনুমোদন করা হয়।
এই লক্ষ্যে কৃষি উপকরণ যেমন, জৈব সার তৈরির বীজ এবং MTU ১১৫৩ প্রজাতির ৫-কেজি করে ধানের বীজ প্রদান করা হয়। আমাদের নিজামুদ্দিনও এই পরিষেবার সহায়তা প্রাপ্ত কৃষক। এর পাশাপাশি নিজামুদ্দিন হেল্পলাইন নম্বর এবং কৃষি বিশেষজ্ঞের সাথে মুখোমুখি আলোচনায় বীজ শোধনের সঠিক পদ্ধতি, জমিতে জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগের সঠিক অনুপাত এবং গাছের পাশাপাশি রোয়া বপনের সঠিক দূরত্ব ইত্যাদি বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে রপ্ত করেন। সেই মতো এক বিঘা জমিতে ধানের ডেমন্সট্রেশন সেন্টার করেন নিজামুদ্দিন। আগে যেখানে এক কাঠা জমিতে ১০-কেজি বীজ লাগতো, এ বছর লেগেছে মাত্র ৫-কেজি।
পাশাপাশি ধানের ফলনও হয়েছে আশাতীত। কনভার্জেন্স এর ডেমোন্সট্রেশন সেন্টার ছাড়াও নিজের ১০-বিঘা জমিতে প্রথাগত ভাবেও ধান চাষ করেন BB ১১ প্রজাতির বীজ ব্যবহার করে। এই জমিতে উৎপাদন বিঘা প্রতি ৬-কুইন্টাল এর মতো। সেখানে এ বছর MTU ১১৫৩ প্রজাতির বীজে ধান হয়েছে প্রায় বিঘা প্রতি ৭-কুইন্টাল। শুধু তাই নয়, MTU ১১৫৩ রবি ও খরিফ উভয় মরসুমেই ব্যবহার করা যাবে। নিজামুদ্দিন ২৫০০/-টাকা কেজিতে এই ধান বাজারে বিক্রি করেছেন। সেখানে অন্য জমির ধানের বিক্রয় মূল্য ছিল কুইন্টাল প্রতি ২২০০/- টাকা। MTU ১১৫৩ প্রজাতির ধান ফলতে ১১০-১২০ দিন লাগে , কিন্তু BB ১১ এর ক্ষেত্রে ফসল ফলতে লাগে ১৪০-১৫০ দিন।
কনভার্জেন্স কর্মসূচি ছাড়াও আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও উপকৃত হয়েছেন নিজামুদ্দিন। ডিসেম্বর এর প্রথম সপ্তাহে খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাষ হেল্পলাইন থেকে পেয়েই ডেমন্সট্রেশন সেন্টার এর ধান ছাড়াও নিজস্ব ১০-বিঘার ধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেছেন। সব জমি মিলিয়ে নিজামুদ্দিনের মোট ১১ বিঘা জমি থেকে আয় প্রায় ১,৩২,০০০/- টাকা। খরচ হয়েছে প্রায় ৬০,০০০/- টাকা। নীট লাভ ৭২,০০০/- টাকা।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এই কনভার্জেন্স কর্মসূচিতে ডেমোন্সট্রেশন সেন্টার করে উপকৃত নিজামুদ্দিনের বেড়েছে আত্মবিশ্বাস, রপ্ত করেছেন আধুনিক বীজ ও জৈব সারের ব্যবহার প্রয়োগ। আগামী দিনে সম্পূর্ণ ধান চাষ এই পদ্ধতিতেই করে এগিয়ে যেতে চান নিজামুদ্দিন।

