ভোটের পরেই হিসাব হবে! ইন্দাসে পুলিশকে সরাসরি হুঁশিয়ারি তৃণমূল ব্লক সভাপতি সেখ হামিদের
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: বঙ্গের তপ্ত রোদের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির পারদ। আর সেই উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বাঁকুড়ার ইন্দাস। আগামী ৫৯ বিধানসভা উপ-নির্বাচনকে (বা ৫৯ নম্বর বুথ সংলগ্ন এলাকা) পাখির চোখ করে যখন ময়দানে সব দল, ঠিক তখনই পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া বার্তা দিয়ে বিতর্কের ঝড় তুললেন ইন্দাস ব্লক তৃণমূল সভাপতি সেখ হামিদ। এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি যেমন শোনালেন জয়ের আত্মবিশ্বাস, তেমনই বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিতেও ছাড়লেন না।
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই সেখ হামিদকে দেখা গেল আত্মবিশ্বাসী মেজাজে। ৫৯ নম্বর বুথ থেকে শুরু করে গোটা ব্লকের নির্বাচনী সমীকরণ নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, দলের কর্মীরা চব্বিশ ঘণ্টা ময়দানে রয়েছে। তবে কেবল উন্নয়ন নয়, তার গলায় শোনা গেল প্রতিরোধের সুরও। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা “শান্ত থাকা মানে দুর্বলতা নয়।” বিরোধীদের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাতে বুথ স্তরে ‘মাইক্রো-প্ল্যানিং’ শেষ করে ফেলেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশটি ছিল পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। হামিদ সাহেব সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, কিছু অসাধু আধিকারিক অতি-সক্রিয়তা দেখিয়ে শাসকদলের কর্মীদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছেন। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ভোটের সময়টুকু পেরিয়ে গেলেই আবার রাজ্য প্রশাসনের হাতেই ক্ষমতা ফিরবে।” সেই সময় যেন কাউকে পস্তাতে না হয়, সেই প্রচ্ছন্ন বার্তাই তিনি দিয়েছেন প্রশাসনের একাংশকে।
বিরোধীদের তোলা সন্ত্রাসের অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তার দাবি, ইন্দাস ব্লকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পই তৃণমূলের প্রধান হাতিয়ার। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসাথী এই পরিষেবাগুলিই মানুষের কাছে তুরুপের তাস। তবে নির্বাচনী লড়াইয়ে বিপক্ষ যদি কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করে, তবে তার ফল যে ভালো হবে না, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
ভোটের আগে সেখ হামিদের এই ‘এক্সক্লুসিভ’ সাক্ষাৎকার ইন্দাসের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে যেমন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে ভোটারদের মন জেতার চেষ্টা, অন্যদিকে পুলিশ ও বিরোধীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি দুই মিলিয়েই হামিদ এখন ইন্দাসের রাজনীতির মধ্যমণি। তার এই রণংদেহি মেজাজ শেষ পর্যন্ত ইভিএমে কতটা প্রভাব ফেলে, নাকি বিরোধীরা এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে পাল্টা চাল দেয়, সেটাই এখন দেখার। ইন্দাসের উত্তপ্ত রাজনীতির আগামী কয়েক দিন যে যথেষ্ট চমকপ্রদ হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

