Thursday, April 30, 2026
- Advertisement -

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের কৃষি প্রশিক্ষণে আত্মবিশ্বাসী বাঁকুড়া নিবাসী কৃষক

- Advertisement -

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের কৃষি প্রশিক্ষণে আত্ম বিশ্বাসী বাঁকুড়া নিবাসী কৃষক কৃষ্ণপদ মুর্মু
কৃষ্ণপদ মুর্মু (৪২), বাঁকুড়া জেলার ছাতনা ব্লকের অন্তর্গত সিহিকা পাহাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আজ রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের সহায়তায় আজ একজন সফল কৃষিজীবী। দারিদ্রের কারণে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর আর পড়াশোনা করা হয় নি। তিন পুত্র সন্তান সহ কৃষ্ণপদ বাবুর ছয় সদস্য বিশিষ্ট পরিবারটির জীবন জীবিকা সম্পূর্ণ ভাবে কৃষি ও পশুপালনের উপর নির্ভরশীল। তবে, মূলতঃ প্রথাগত পদ্ধতিতেই চাষ করতেন কৃষ্ণপদ বাবু, সঠিক তথ্য ও প্রশিক্ষণের অভাবে আধুনিক কৃষির বিষয়গুলি অধরাই ছিল।

এমতাবস্থায় কৃষ্ণপদ বাবুর সাথে পরিচয় ঘটে গ্রামেরই এক কৃষক বন্ধু তাপস বাবুর সাথে এবং জানতে পারেন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের হেল্পলাইন পরিষেবা ও অন্যান্য প্রশিক্ষণের কথা। এরপর নিয়মিতভাবে হেল্পলাইনের মাধ্যমে রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞদের সাথে কৃষি ও পশুপালন নিয়ে তথ্যের আদান প্রদান করতে থাকেন। পাশাপাশি হোয়াটস্যাপ গ্রূপের মাধ্যমেও চলতে থাকে প্রয়োজনীয় বিষয়ের উপর তথ্য সংগ্রহ। হেল্পলাইন ছাড়া রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের জীবিকা বিকাশ কার্যক্রমের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো অডিও এবং ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ।

মূলতঃ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ও প্রশিক্ষণে এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন এবং পাশাপাশি পশুপালনের খামারটিও লাভজনকভাবে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন – এর মধ্যে রয়েছে একটি ছাগল, ছয়টি ভেড়া এবং তিনটি গাভী। এছাড়া এ বছর কৃষ্ণ পদ এক বিঘা জমিতে প্রায় ১০০০০/- টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে বেগুন চাষ করেন, কিন্তু বেগুন একটু বড়ো হওয়ার পর হঠাৎই বেগুনগাছের পাতা সাদা পোকার আক্রমণে হলুদ হতে থাকে। সময় নষ্ট না করে কৃষ্ণ পদ হেল্প লাইন এ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করেন। ফলস্বরূপ এক সপ্তাহের মধ্যেই বেগুন গাছ সতেজ অবস্থায় ফিরে আসে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই ২৫ কুইন্টাল বেগুন ২০/- টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি করে ৫০০০০/- টাকা আয় করেছেন এবং আশা করছেন এই মরশুমে আরো ২৫ কুইন্টাল বেগুন ফলাতে পারবেন।

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের এই পরিষেবায় উপকৃত কৃষ্ণপদ বলেন ” এ বছর পোকার আক্রমণে আমার বেগুন ক্ষেত প্রায় নষ্ট হয় যাচ্ছিলো, রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শে আমি শুধু বেগুন খেত রক্ষাই করলাম না, পাশাপাশি আত্ম বিশ্বাস বাড়লো বহুগুন। কারণ আগে আমাদের স্থানীয় দোকানই ছিল ভরসা, আর এখন যে কোনো সমস্যায় ঘরে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চাষ করতে পারছি “।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -spot_img
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments