পকেটে টান, রান্নাঘরে দুশ্চিন্তা দেশজুড়ে সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিতে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ মধ্যবিত্তের কপালে।
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: দেশজুড়ে সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিতে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ মধ্যবিত্তের কপালে। মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে এবার টান পড়ল সাধারণ জনগণের হেঁশেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে রান্নার গ্যাসের বুকিং ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনল রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। এখন থেকে একটি সিলিন্ডার নেওয়ার পর পরবর্তী বুকিংয়ের জন্য গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সময় অবধি অপেক্ষা করতে হবে। এক ধাক্কায় ৬০ টাকা দাম বেড়ে গেল।
সিলিন্ডার ডেলিভারি পাওয়ার পর পরবর্তী ২১ দিনের আগে নতুন বুকিং করা যাবে না।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমদানিতে ঘাটতি এবং গ্রাহকদের মধ্যে প্যানিক বুকিং রোখাই এই ‘লক-ইন পিরিয়ড’ চালুর প্রধান উদ্দেশ্য। এই নিয়ম ইন্ডিয়ান অয়েল (Indane), ভারত গ্যাস (ভারত Gas) এবং এইচপি গ্যাস (HP Gas)-সহ সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী সংস্থার গ্রাহকদের জন্য কার্যকর করা হয়েছে।সিলিন্ডারের দাম প্রায় ১১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নিয়মে একক সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান ২১ দিন এবং ডাবল সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধান ৩০ দিন করা হয়েছে। গ্যাসের নতুন দাম অনুযায়ী, ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন গৃহবধূরা।
মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে এই বাড়তি খরচ বড় একটা ধাক্কা। শহরতলির এক গৃহবধূর কথায়, “চাল-ডাল থেকে শুরু করে সব সবজির দাম আগেই বৃদ্ধি পেয়েছে এখন যদি গ্যাসের দাম এভাবে বাড়তে থাকে তবে মাসে দুবেলা উনুন জ্বলবে কিনা সন্দেহ।বাজারে জোগানের ঘাটতি এবং বুকিংয়ের কড়াকড়ির সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কালোবাজারি শুরু করতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় এখনই সিলিন্ডার পেতে বাড়তি সময় লাগছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। ছোট হোটেল বা রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলিও এই সংকটের জেরে দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে, যার প্রভাব পরোক্ষভাবে পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটেই।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির সমীকরণ বদলে দিলেও, তার আসল মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নতুন নিয়ম এবং আকাশছোঁয়া দাম এই দুইয়ের চাপে পড়ে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ গৃহস্থের। সরকার ও তেল সংস্থাগুলো সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আশ্বাস দিলেও, বাস্তব পরিস্থিতি বলছে অন্য কথা। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা কমলে সাধারণ মানুষের এই বোঝা কিছুটা লাঘব হয় কি? নাকি এই অগ্নিমূল্যই হয়ে থাকবে?

