কালবৈশাখী নাকি মিনি টর্নেডো – তা নিয়ে ধোঁয়াশায় আবহাওয়া অফিস
নিউজ ডেস্ক :- মুহূর্তে এমন পরিস্থিতির জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না। পূর্বাভাস ছিল কাল বৈশাখীর। কিন্তু মুহূর্তে সব ওলোটপালোট। রবিবার রাতেই জলপাইগুড়িতে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাচ্ছেন সোমবার সকালে। আজ রাতে কিংবা সোমবার সকালে রওনা দিতে পারেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। ঝড়বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড জলপাইগুড়ি সদর ও ময়নাগুড়ি ব্লকের বেশ কিছু এলাকা।
সুকান্তনগর এলাকায় গাছ চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক পথচারীর। ঝড়ের দাপটে পাহাড়পুরে টোটো উল্টে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার। ময়নাগুড়ি ও জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল মিলিয়ে দুই হাসপাতালে আড়াইশোর বেশি মানুষ। যে ঝড় রবিবার বিকালে হয়েছে তা কালবৈশাখী নাকি টর্নেডো তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ময়নাগুড়ির একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। যার সঙ্গে মিল রয়েছে টর্নেডোর। কয়েক মিনিটের ঝড় উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছে সবকিছু। ইতিমধ্যেই রাজভবনে এমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
এডিসি মেজর নিখিল কুমারকে নোডাল অফিসার করা হয়েছে কন্ট্রোল রুমের। রাজভবন জানাচ্ছে , ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ফোন এসেছে উত্তরবঙ্গের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে। চারিদিকে হাহাকার। আহত মানুষদের চিৎকার শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন হসপিটালে।
রাজভবন সূত্রের খাবে, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও জলপাইগুড়ি র উদ্দেশে রওনা হবেন। আজ রাতেই ট্রেনে বা কাল সকালের উড়ানে রওনা দেবেন। এখনো পর্যন্ত ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত অন্তত ২৫০ জন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ত্রাণ দেওয়ার কথা এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুহূর্তে লন্ডভন্ড হয়ে যায় সব। গাছ ও বাড়ি ভেঙে মারা যায় চারজন। আহত হয় অনেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক বার্তায় বলেন, ‘রবিবার দুপুরে জলপাইগুড়ি- ময়নাগুড়ি এলাকায় ঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টির খবর পেয়েছি। জীবনহানি, আহত, বাড়িঘরের ক্ষতি, গাছ-বিদ্যুতের পোল উপড়ে পড়েছে।’ জেলা ও ব্লক প্রশাসন, পুলিশ, ডিএমজি, কিআরটি এই বিপর্যয় মোকাবিলায় ময়দানে নেমেছে বলে জানান মমতা। সকলকে নিরাপদ স্থানে সরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’ রবিবার সাংঘাতিক ঝড়ের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়েছে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। নিহতদের নাম দ্বিজেন্দ্রনারায়ণ সরকার (৫২), অনিমা রায় (৪৯), যোগেন রায় (৭০) ও সমর রায় (৬৪)। আগামিকাল সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যাবেন জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে। ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ৬০ জনের বেশি চিকিৎসাধীন। এছাড়া জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও অনেকে ভর্তি। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার বিভিন্ন ব্লক থেকে জরুরি ভিত্তিতে ময়নাগুড়ি হাসপাতালে ডাক্তার পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন জলপাইগুড়ি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। দ্রুত শুরু হয়েছে আহতদের চিকিৎসা।

