মনিপুষ্পক খাঁ, শান্তিনিকেতন : শান্তিনিকেতনে ঘুরতে এসে সোনাঝুরি বা খোয়াই হাট আসেন না এরম বাঙালি বোধহয় কমই আছেন। শুধু বাঙালি কেন শান্তিনিকেতনে আসা সমস্ত পর্যটকদের ই অন্যতম ডেস্টিনেশন খোয়াই অর্থাৎ সোনাঝুরি হাট। আদিবাসী গানে নৃত্য , হরেক রকম স্থানীয় বুটিকের দোকান, গয়না , খাবারদাবার সহ হস্ত শিল্পের এক জনপ্রিয় হাট শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি। বছরের প্রায়শই ভিড় লেগে থাকে সেখানে , শান্তিনিকেতন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হওয়ার পর থেকেই পর্যটকদের আসা যাওয়া আরো বেড়েছে। মানুষের আসা-যাওয়ার সাথেই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পর্যটকদের দ্বারা জঙ্গল কে অপরিষ্কার করার প্রবণতা। তাছাড়া ও হাটের পরিধি ও বেড়েই চলেছে।
মাটি চুরির ঘটনা ও সামনে এসেছে।যার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন শান্তিনিকেতনের স্থানীয় মানুষজন সহ একাধিক পরিবেশবিদ রা। এমত অবস্থায়, জঙ্গল বাঁচাতে বনদপ্তর এর পদক্ষেপে
সোনাঝুড়ির হাট হতে চলেছে ‘পরিবেশ বান্ধব’। যার জন্য সোনাঝুরির সীমানা ঘিরে ফেলা হবে পিলার ও নেট দিয়ে। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চিহ্নিতকরণের কাজ। পর্যটকদেরও মানতে হবে বেশকিছু নিয়মাবলী। জীববৈচিত্র্য কিংবা জঙ্গলের ক্ষতি হয় এমন কোনও কাজ করলে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা।
বনদফতরের সিদ্ধান্তে দুশ্চিন্তায় হাটের শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশ। সোনাঝুরির হাট, শান্তিনিকেতনের অন্যতম পর্যটন ক্ষেত্র। বনদপ্তরের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ফিতে ফেলে শুরু হয়েছে মাপাজোকের কাজ। প্রায় ১২১ কিলোমিটার এলাকা ঘিরে ফেলা হবে বলে সূত্রের খবর। এছাড়াও ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য লাগু করা হবে বেশ কিছু বিধিনিষেধ। বনদফতরের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই কপালে চিন্তার ভাঁজ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের।
( জঙ্গল বাঁচানোর জন্যই )
সারাবছরই এখানে পর্যটকদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মত। প্রায় ২০ বছর আগে শান্তিনিকেতনের বনদফতরের জায়গায় হাট চালু হয় নিছকি কয়েকজন স্থানীয় গ্রামবাসী ও হস্তশিল্পীদের উদ্যোগে। বর্তমানে শুক্র থেকে রবি ছাড়াও প্রতিদিনই হাটে থাকে কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা। বিশেষ করে শনি-রবিবার ভিড় সামলাতে অতিরিক্ত বাহিনীও দিতে হয় পুলিশকে। সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু এরই মাঝে উঠেছে জঙ্গলের মাটি চুরির অভিযোগ। যার ফলে একের পর এক গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বনদফতরের জায়গায় অবৈধ নির্মাণ, ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা হোটেল ও রিসর্টে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য হারিয়ে ক্রমশ কৃত্রিমতা গ্রাস করছে সোনাঝুরিকে, অন্তত এমনই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন পরিবেশবিদরা। তাই এবার জঙ্গল বাঁচাতেই পিলার দিয়ে চিহ্নিতকরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করল বনদফতর। সোনাঝুরির সীমানা ঘিরে ফেলা হবে পিলার ও নেট দিয়ে।
সোনাঝুরির হাট কমিটির সম্পাদক তন্ময় মিত্র বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হস্তশিল্পী, কুটিরশিল্পী ও আদিবাসী শিল্পীরা বিকিকিনি উদ্দেশেই জঙ্গলের মধ্যে হাটে বসেন। হাটকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতন সংলগ্ন স্থানীয় মহিলারা আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন। বনদফতর জঙ্গলের সীমানা দিতেই পারে। রুটি রুজির প্রশ্নে হাটে বসা প্রায় ১৭০০ শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের পেটে লাথি না পড়লেই হল।’

