সংসয়ে এখন বহু মানুষের ভোট, প্রশ্ন চিহ্নের নাম বিচারাধীন!
অনন্যা ব্যানার্জী, কলকাতা: ভোটের আগেই চরম উত্তেজনা।মেগা লড়াইয়ের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরদারিতে SIR রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বর্তমানে বিবেচনাধীন পর্যায়ে আটকে রয়েছে।বিচারপতির এজলাস থেকে কমিশনের টেবিল—বাংলার ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার এখন সুতোর ওপর ঝুলছে!
আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট হতে চলেছে। বাংলার ভোট রাজনীতিতে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন—এই ৬০ লক্ষ মানুষ কি শেষ পর্যন্ত বুথমুখী হতে পারবেন? যদিও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার অবশ্য অভয় দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
তবে কলকাতা হাইকোর্টের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ৭০৫ জন জুডিশিয়াল অফিসার দিনরাত এক করে প্রতিটি আবেদন খতিয়ে দেখছেন। এটি ভারতীয় নির্বাচনী ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে দেখা গিয়েছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ঝুলে রয়েছে।শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ আবেদনের ফয়সালা হয়ে গেছে।
অর্থাৎ, ঝুলে থাকা নামের জট খুলতে শুরু করেছে।ভোটার তালিকায় কোনো স্বচ্ছতা যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, তার জন্যই এই ‘অপারেশন ক্লিনআপ’। তবে চিন্তার বিষয় হলো, যাদের নথিপত্র বৈধ মিলবে না, তাদের নাম কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা থেকে চিরতরে মুছে যাবে।
একদিকে নির্বাচন কমিশন ও কয়েকশো বিচার বিভাগীয় অফিসারের তৎপরতা যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে কাজ করছে ভোটাধিকার হারানোর এক চাপা উদ্বেগ।
গণতন্ত্রের উৎসবে একটি ভোটও যেমন মূল্যবান, তেমনি ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখাও অপরিহার্য। আদালতের কড়া নজরদারিতে চলা এই সুবিশাল যাচাই প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কতজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সুরক্ষিত রাখতে পারে, সেটাই এখন দেখার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ‘বিবেচনাধীন’ তালিকার নিষ্পত্তিই হয়তো ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলে বড় কোনো মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই আপনার নাম তালিকায় আছে কি না, তা এখনই যাচাই করে নেওয়া আপনার পবিত্র নাগরিক দায়িত্ব।

