নিশীথ দাস, TV-20 বাংলা : উত্তর কাশিতে ট্রেকিংয়ে গিয়ে তুষার ধসে মৃত্যু হল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নিউবারাকপুরের কামারগাতি এলাকার বাসিন্দা সন্দীর সরকারের। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
সোমবার তাঁর বাড়িতে দেখা করতে আসেন জেলাশাসক দফতরের আধিকারিকেরা। এদিন সন্দীপের স্ত্রী সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কথাও বলেন তাঁরা। মঙ্গলবার সন্দীপের মৃতদেহ কলকাতা দমদম বিমানবন্দরে আসবে। সেখান থেকেই সন্দীপের পরিবার তাঁর নিথর দেহ নিয়ে আসবে নিউবারাকপুরের বাড়িতে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দীপ সরকার পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিভিন্ন শৃঙ্গ জয়ের নেশায় ট্রেকিং করে আসছেন । এবার উচ্চতম শৃঙ্গে ট্রেকিং করার জন্য উত্তরকাশীতে একটি অ্যাডভান্স কোর্স করতে গিয়েছিলেন সন্দীপ। গত ১১ সেপ্টেম্বর এক সংস্থার অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে ৪১ জনের একটি দলের সঙ্গে উত্তরকাশীর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সন্দীপ। আগামী ১২ তারিখ দিল্লি থেকে বিমানে বাড়ি ফেরার কথা ছিল সন্দ্বীপেয়ে । গত ৪ অক্টোবর সন্দীপ সহ ৪১ জনের ওই দল ভোর ৪ টের সময় বেরিয়েছিলেন। এরপরই সকাল সওয়া ৮টা নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। আচমকাই তুষারধসে ৪১ জনের মধ্যে ২৯ জন নিখোঁজ হয়ে যায়।
৫ অক্টোবর সন্দীপের নিথর দেহের হদিশ পাওয়ার পরই নেহেরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং-এর তরফে সন্দীপের বাড়িতে তাঁর মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দমদম বিমানবন্দরে সন্দীপের দেহ নিয়ে আসা হবে। সন্দীপের এই অকালমৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী ও ১২ বছরের ছেলে।
তবে কেবল সন্দীপই নন, ওই তুষারধসে রাজ্যের আরও ৩ বাঙালির মৃত্যু হয়েছে বলে উত্তরাখণ্ডের পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেহেরু ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেনিয়ারিং -এর তরফে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ হওয়া ২৯ জনের মধ্যে ৯ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গেলেও তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে প্রত্যেকেই মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

